২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সন্দ্বীপ থানা মাদকের আখড়া’— যুবদল নেতার বক্তব্যে বিতর্ক, অভিযোগ উড়িয়ে দিল পুলিশ

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক প্রভাষক নিঝুম খান দাবি করেছেন, সন্দ্বীপ থানার ১২ জন এসআই সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার।

বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিঝুম খান বলেন, ‌‘মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি। কিন্তু আমরা এবং প্রশাসন যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকি, তাহলে মাদক বন্ধ করব কীভাবে?’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভালো ছেলেও বর্তমানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিঝুম খান বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত, সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ঠাকুর দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মাত্র চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে সন্দ্বীপকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।

প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে থানা আপনাদের কথা শোনে না। সন্দ্বীপ থানা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্দ্বীপ থানার অন্তত ১২ জন এসআই সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় আমরা এই থানাকে রক্ষা করেছি। এখন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে দেওয়া এ বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই বলছেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি অভিযোগ বিরল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অবান্তর এবং ভিত্তিহীন। যুবদল নেতার থানাকে নিয়ে করা এমন মন্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা। বর্তমানে সন্দ্বীপ থানায় মোট আটজন এসআই কর্মরত আছেন।’

যুবদল নেতার দাবি অনুযায়ী ১২ জন এসআই এবং ওসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী থানায় মাত্র আটজন এসআই কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে যুবদল নেতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ