উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে কুয়াইশ বুড়িশ্চর শেখ মোহাম্মদ সিটি কর্পোরেশন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি উৎসবের আবহে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা সফর ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমদ শাহ আলমগীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের এই বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়; বরং এটি নতুন সম্ভাবনা, নতুন দায়িত্ব এবং নতুন পথচলার সূচনা। তোমরা শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য পড়াশোনা করোনি, বরং একজন দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করেছ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে ধারণ করলে সফলতা অবশ্যই আসবে। কলেজের অর্জন, সুনাম ও মূল্যবোধ তোমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ হবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আহমদ শাহ আলমগীর বলেন, ‘শিক্ষা সফর একজন শিক্ষার্থীর পাঠ্যজীবনকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করে। শ্রেণিকক্ষের বাইরের শিক্ষা, দলগত চর্চা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। আজ যাদের বিদায় জানানো হচ্ছে, তারা আমাদের কলেজ পরিবারেরই অংশ। ভবিষ্যতে তারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখবে— এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। তোমাদের সাফল্যই হবে আমাদের শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়া বেগম বলেন, ‘ভাষা ও সাহিত্য মানুষকে কেবল জ্ঞানীই করে না, বরং তাকে সংবেদনশীল ও মানবিক করে তোলে। তোমরা যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ নিয়ে কলেজ ছাড়ছ, তা যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করো। সময়ের সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখা, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের উপযোগী করে গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অপর্ণা রানী মজুমদার বলেন, ‘সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি প্রয়োজন শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং কঠোর পরিশ্রম। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তাই এখন থেকেই নিজেদের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং পেশাগত প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করলে যে কোনো ক্ষেত্রেই সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।’
ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নিদা আহমেদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত পরিচয় তার চরিত্র, নেতৃত্বগুণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতায়। ব্যবস্থাপনা শিক্ষা কেবল একটি বিষয় নয়; এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দল পরিচালনার শিক্ষা। তোমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাবে, ব্যর্থতাকে ভয় পাবে না এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সুজন দে ও অধ্যাপক সুজন বড়ুয়া। তারা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতা অর্জনের নানা পরামর্শ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনেকেই কলেজজীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত, শিক্ষকদের স্নেহ-ভালোবাসা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল মধ্যাহ্নভোজ, স্মৃতিচারণ পর্ব, ফটোসেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং র্যাফেল ড্র। আনন্দ-উচ্ছ্বাস, আবেগ ও স্মৃতিময় নানা আয়োজনে পুরো দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
দিনের শেষে বিদায়ের আবেগ, প্রিয় ক্যাম্পাসের স্মৃতি এবং নতুন পথচলার প্রত্যয়কে হৃদয়ে ধারণ করে শিক্ষা সফর ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।














