চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় মো. শাহজাহান নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৩১) ওরফে আরিফকে এক মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে চান্দগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা এলাকার বাসিন্দা সানোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ৬ জুলাই চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন – চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার মো. আলীর ছেলে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৩১), শংকর দেওয়ানজীরহাট এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে সিরাজুল ইসলাম লেদু (৫৫), ভুলুর ছেলে মো. লিটন (৪৮), ভুজপুর থানার ছিকনছড়ি এলাকার হাজেরা বেগমের ছেলে মো. রাজু (৩৮) এবং জাহাঙ্গীরের ছেলে জাবের (৩০)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর ছেলে মো. শাহজাহান কর্মসূত্রে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি টেকবাজারপুল এলাকায় বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এর জেরে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ এলাকায় বোনের বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল এলাকার শংকর দেওয়ানজীরহাট মসজিদের সামনের পুকুরপাড়ে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে শাহজাহানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে কিরিচ দিয়ে তার ডান হাতে ও দুই পায়ে কোপ দেওয়া হয়। এছাড়া লোহার রড দিয়ে তার ডান হাঁটুতে আঘাত করে হাড় ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, হামলার সময় শাহজাহানের কাছে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা, আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ আসামিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস পর মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, আজ দুপুরে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।














