প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রামের হাটহাজারী সফর উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বিশাল গণমিছিল নিয়ে যোগ দিয়েছেন রাউজান উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে রাউজানের প্রবেশদ্বার হালদা নদীর ছত্তারঘাট সেতু এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভাস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাউজানবাসীর পক্ষ থেকে স্বাগত জানাতে এ গণমিছিলের আয়োজন করা হয়।
মিছিলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও রাউজান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে যোগ দেন। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও একই রঙের টুপি পরে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মিছিলটি বড় আকার ধারণ করে।
এর আগে ছত্তারঘাট সেতু এলাকায় রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল। উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা রাসেল খান সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।
সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উত্তর চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের সুবিধাজনক স্থানে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বৃহৎ এই অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
এ ছাড়া হাটহাজারীর আলমপুরে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি পুনঃসংস্কার করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর দাবিও জানানো হয়। বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তর চট্টগ্রামের যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে দাবি করেন তারা।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে যানজট কমার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সমাবেশে উত্তর চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান সাবেক স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিও উঠে আসে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বা একাডেমিক স্থাপনার নাম তাঁর নামে করার দাবি জানান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে, হালদা নদীর উভয় তীরে ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী ফ্লাড ওয়াল নির্মাণের দাবিও জানানো হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও বন্যায় তীরবর্তী জনপদে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।
এর পাশাপাশি উত্তর চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আরও নানা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাটহাজারী সফরকে উত্তর চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের এসব দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।














