৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহত বেড়ে ৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরনো যে জাহাজে ৯ জনের প্রাণ গেছে, গ্যাসমুক্ত না করেই সেটি কাটার কাজ চলছিল বলে ‘জানতে পেরেছেন’ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। সরকারের একাধিক সংস্থার ভাষ্য, এলএনজি বহনকারী পুরনো জাহাজটিতে তারা হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির নিচের দিকের অংশে সালফার জাতীয় কোনো উপাদান ছিল। ওই উপকরণ পানির সংস্পর্শে আসায় সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস সৃষ্টি হয়। বিষাক্ত গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় ওই জাহাজে কাজ করতে যাওয়া ব্যক্তিরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠন— বিএসবিআরএ’র পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার সব খরচ দেওয়া হবে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস খবর পায় বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি প্রায় ৮-৯ তলার সমান উঁচু একটি এলএনজি ট্যাংকার। এ ধরনের খালি জাহাজে কার্বন গ্যাস জমে যায়। বাতাসের সংস্পর্শে কার্বন ডাই অক্সাইড বা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। যতটুকু জানতে পেরেছি, গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কাজ করা হচ্ছিল। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা গিয়েও গ্যাসের গন্ধ পেয়েছি। পরে সাগর পাড়ের বাতাস ও জোয়ারের পানিতে গ্যাসের পরিমাণ কিছুটা কমে।’

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরিদর্শনে প্রাথমিকভাবে যা পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে, গ্যাসের বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রধানত হাইড্রোজেন সালাইফড গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছি। এছাড়া অন্য গ্যাসও ছিল।’

‘এলএনজিবাহী পুরনো জাহাজটির কার্গো ট্যাংকার আগেই ডিজমেন্টাল করা হয়েছে। জাহাজের নিচের দিকে কোনো অংশে সালফারবাহী কোনো উপাদান হয়ত ছিল। যা পঁচে সেখানে সালফার জমা হয়েছে। পানির সংস্পর্শে আসার পর সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের ঘনত্ব ছিল অনেক বেশি। তাই যারাই শুরুতে সেখানে গিয়েছেন, তারা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন