চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সামিহা হাকিম নিহা (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুক ও দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া ও সুন্দরপুর ইউনিয়ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামিহা হাকিম নিহা ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার মো. মারুফ পারভেজের সঙ্গে পারিবারিকভাবে নিহার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। উভয়েই পরকীয়ার অভিযোগ এনে একে অপরের সঙ্গে বিবাদে জড়াতেন বলে স্বজনদের দাবি।
নিহার মা রূপা আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে স্বামী মারুফ পারভেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সালিশ ও সতর্ক করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
রূপা আক্তার জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মারুফ ফোন করে জানান, নিহা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে নিহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, নিহার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই স্বামী মারুফ পারভেজ ও তাঁর কয়েকজন স্বজন মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা রূপা আক্তার বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় স্বামী মারুফ পারভেজসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














