১৫ অক্টোবর ২০২৬

পটিয়ায় পুকুরের মাছ নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দাঁত ভাঙল ঘুষির আঘাতে

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অংশীদারিত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। হামলায় বৃদ্ধা জামানা খাতুনের ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশে আঘাত লেগেছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ছেলে মো. হাসেম (৪৫) ও পুত্রবধূ ডেইজী আক্তার (২৮)। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।

গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে দুই দফায় এসব ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে পটিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন জামানা খাতুন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাকখাইন জামে মসজিদ-সংলগ্ন একটি পুকুরে স্থানীয় কয়েকজনের অংশীদারত্ব রয়েছে। পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবেশীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

এজাহারে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে তাঁরা মো. হাসেমকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে হাসেম প্রাণভয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পিছু নিয়ে বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালান। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা চলে যান। পরে গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর পরদিন ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে আবারও হামলা চালান। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধা জামানা খাতুন ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

জামানা খাতুনের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজনের ঘুষির আঘাতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। পরে আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশে আঘাত লাগে। হামলা ও ভাঙচুরে তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃদ্ধা জামানা খাতুন বলেন, ‘সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রতিবেশী নারগিছ আক্তার বলেন, ‘যারা অভিযোগ করছেন, তারাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ