১৫ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক এএসপির বাড়িতে ডাকাতি, ডিবির জালে চক্রের ৫ সদস্য

অবসরকালীন পেনশন ও অন্যান্য সুবিধার টাকা পাওয়ার তথ্য ছিল ডাকাত দলের কাছে। সেই অর্থ ও মূল্যবান সম্পদের আশায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে হানা দেয় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি ডাকাত দল। গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে, মারধর করে বাড়ির মালিকের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, কার্তুজ, ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টা থেকে রাত ৩টার মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। এ সময় বাড়ির মালিক মতিন উল্লাহকে মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখা হয়।

পরে ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।

ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রামে অভিযান
ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মিরসরাই থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার তিতাসের মো. রহিম, বরুড়ার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস, দাউদকান্দির মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব এবং লাকসামের মো. আনোয়ার হোসেন মিলন ও মো. হানিফ। তাঁদের মধ্যে আনোয়ার ও হানিফ চট্টগ্রাম মহানগরের আকবর শাহ এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অস্ত্র, কার্তুজ ও ট্রাক উদ্ধার
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোড়া, একটি ট্রাক, সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পেনশনের টাকার তথ্য থেকে ডাকাতির পরিকল্পনা
তদন্তে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন— এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী থাকতে পারে বলে ধারণা করে ডাকাত দলটি। সেই আশাতেই ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জামালের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা এবং সাইফুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আনোয়ার হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

বাংলাধারা/কেএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ