২৩ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎহীন রাতে অন্ধকার, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস রোগীদের

জেনারেটর আছে, তেল নেই— বিদ্যুৎ গেলেই ভুতুড়ে আনোয়ারা হাসপাতাল

তীব্র গরমে কষ্টে ছটফট করছে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি শিশুরা। আট মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে আট বছর বয়সী রোগীদের গরমের যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি দিতে মায়েরা কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তীব্র গরমে সেই বাতাসেও যেন স্বস্তি মিলছে না।

গরমের কারণে কেউ হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা নিয়েই বেড ছেড়ে বারান্দা বা সিঁড়িতে বসে আছেন। কেউ আবার অসুস্থ শরীর নিয়েও বাইরে কিংবা ছাদে হাঁটাহাঁটি করছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে নেমে আসে অন্ধকার। ফলে অসুস্থতার সঙ্গে তীব্র গরমের যন্ত্রণা যোগ হয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জেনারেটর চালু হতে দেখা যায়নি। এতে পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি জেনারেটর রয়েছে। তবে জেনারেটর চালানোর জন্য নিয়মিত তেলের বরাদ্দ না থাকায় প্রয়োজনের সময়ও তা চালু করা সম্ভব হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থায়নে সীমিত পরিমাণ তেলের ব্যবস্থা করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেনারেটর চালু করে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় শিশু, বৃদ্ধ ও নারী রোগীদের অনেকে বেডে কিংবা মেঝেতে কষ্টে কাতরাচ্ছিলেন। গরম থেকে স্বস্তি পেতে স্বজনদের কেউ কাগজ বা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন, আবার কেউ শিশুদের শরীর পানি দিয়ে মুছে দিচ্ছেন।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগী বলেন, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক স্যালাইন দিয়েছেন। কিন্তু তীব্র গরমে বেডে আরাম করে থাকা যাচ্ছে না। তাই হাতে স্যালাইন নিয়েই সিঁড়ির পাশে এসে বসেছেন। সরকারি হাসপাতালে জেনারেটর থাকার পরও তেলের অভাবে সেটি চালু না হওয়া দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, জেনারেটরে তেলের সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের চারপাশে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁদের।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক তীব্র গরমে ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে কয়েকদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপও বেড়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি জেনারেটর রয়েছে। সরকারিভাবে তেলের ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের নিজস্ব অর্থায়নে কিছু তেলের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেনারেটর চালু করে চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করা হয়। বাকি সময় জেনারেটর বন্ধ রাখতে হয়।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ