চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী এক হাজতি আসামিকে হাইকোর্টের জামিনের আদেশের পরও মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে শোকজ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক এক আদেশে সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনের কাছে ওই হাজতিকে মুক্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চান। একই সঙ্গে দুই কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই হাজতির নাম ইলিয়াছ হোসেন। তিনি ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তিনি নগরের চকবাজার এলাকার বাসিন্দা। গত ৬ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ইলিয়াছ এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। নিয়ম অনুযায়ী জামিননামার কপি নিম্ন আদালতে দাখিলের পর গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে।
তবে এরপর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ইলিয়াছকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, ইলিয়াছের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি-ডব্লিউ) বা কাস্টডি ওয়ারেন্ট (সি-ডব্লিউ) মুলতবি ছিল না। ফলে আদালতের জামিন আদেশের পরও তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে কারাগার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে হয়নি।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, একদিনেই দুই শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে কাউকে আটকে রাখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, হাজতি ইলিয়াছের নথিপত্রে হয়তো কারিগরি কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে লিখিত জবাব দেওয়া হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভুল হয়ে থাকলে আদালতের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হবে।














