দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম দুজনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এর মধ্যে নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে চার দিন, মাকসুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এক দিন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম এহসানুল ইসলাম রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামিকে সাত দিনের জন্য রিমান্ডে চেয়েছিলেন। আবেদনে তিনি বলেছিলেন, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন হয় আসামি পক্ষ থেকে। দুই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারক এহসানুল ইসলাম দুই আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকায় (ন্যাম ফ্ল্যাট) নজরুলের ফ্ল্যাটে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় নজরুল, তার প্রথম স্ত্রীর পাশাপাশি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ওবায়দুর পলাতক রয়েছেন। তার অবস্থান জানাসহ পাঁচটি কারণ দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল- মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় নজরুল ও মাকসুদা কী করছিলেন, তা জানা প্রয়োজন; আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় তাদের দুজনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে হবে; পলাতক ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ও তার অবস্থান সম্পর্কে জানার দরকার; অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জানা প্রয়োজন; ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
গতকাল সন্ধ্যায় মরিয়মের লাশ উদ্ধারের পর নজরুল ও মাকসুদাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে রাতভর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলে।
রাতে মরিয়মের বাবা মামলা করার পর সেই মামলায় দুজনকে সকালে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয় ঢাকার আদালতে। অন্যদিকে ময়নাতদন্তের পর মরিয়মের লাশ হস্তান্তর হয় পরিবারের কাছে।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। তখন তার প্রথম স্ত্রীও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেন। তবে নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরও নজরুলের সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় দোষি সাব্যস্ত হলে অন্যূন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। আবার এমন ফৌজদারি অপরাধে কারও দুই বছরের বেশি সাজা হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হন।














