২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম ভাঙচুর; একই মাঠে দুই চেম্বারের মেলা আয়োজন

পলোগ্রাউন্ডে মেলা শুরুর আগেই উত্তেজনা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজ চলাকালে নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে মেলার আয়োজক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই)। ঘটনার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

সিএমসিসিআইয়ের অভিযোগ, মেলার প্রস্তুতির জন্য আনা বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে দুটি পিকআপে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। এ সময় মেলার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একই সময়ে দুই চেম্বারের মেলা আয়োজন
পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রামের দুই ব্যবসায়ী সংগঠন— চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই)।

দুই সংগঠনই আগামী ১ থেকে ২৯ নভেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজন করতে চায়। সিএমসিসিআইয়ের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদন নিয়ে মাঠ ভাড়ার ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধসহ মেলা আয়োজনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা তারা আগেই সম্পন্ন করেছে।

সিএমসিসিআই সূত্র জানায়, মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ১০ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরে ১৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা ১ থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২৯ দিন পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিআইটিইএফ-২০২৬ আয়োজনের অনুমতি দেয়।

এরপর মেলা চলাকালে নিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে পুলিশ টিম মোতায়েনের আবেদন করা হয়। ২৬ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) বরাবর মাঠ ভাড়া বাবদ ৪৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার পাঠিয়ে চুক্তিও সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি সিএমসিসিআইয়ের।

সংগঠনটির আরও দাবি, সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত রেলওয়ে স্টেডিয়াম ও পলোগ্রাউন্ড মাঠ বরাদ্দের চুক্তিনামা সিএমসিসিআইকে পাঠিয়েছে।

‘১০ লাখ টাকা দাবি করে, মালামাল নিয়ে গেছে’
মেলার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হান্নান সিকদার বলেন, ‘আমরা মেলার কাজ করছিলাম। হঠাৎ কিছু লোকজন এসে প্রথমে আমাকে সমঝোতা করতে বলে। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি বলি, মেলা তো মেট্রোপলিটন চেম্বারের। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমি তো ইভেন্টের দায়িত্বে আছি। এরপর তারা আমার গায়ে হাত তোলে এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।’

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সিএমসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি এ.এম. মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে কীভাবে মেলা শুরু করা যায়, সে বিষয়ে বোর্ড মিটিং করে আমাদের সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, সমস্যার সমাধান হবে।’

৩২ বছরের ঐতিহ্যের দাবি সিসিসিআইয়ের
অন্যদিকে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা ৩২ বছর ধরে এখানে মেলা করে আসছি। এখন অন্য কেউ এসে মেলা করবে, এমন তো হবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, মেট্রোপলিটন চেম্বার মেলা আয়োজনের জন্য একজন যুবলীগ নেতাকে ভাড়া দিচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিসিসিআইয়ের দাবি, তারা গত ৩২ বছর ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। বিভিন্ন বছর মেলায় প্রায় ৪০০টি স্টলে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব মেলা থেকে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা।

নভেম্বরে মেলা না করার প্রস্তাব রেলওয়ের
দুই চেম্বারের বিরোধের মধ্যে সিসিসিআইকে নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পূর্বের মহাব্যবস্থাপক নভেম্বর মাসে মেলার জন্য সিএমসিসিআইকে অনুমোদন দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেলা কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই) সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে সব কার্যক্রম শেষ করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এসে একই সময়ে মাঠটিতে মেলা আয়োজনের আবেদন জানিয়েছে।’

রেলওয়ের পক্ষ থেকে সিসিসিআইকে নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

২৪০ স্টল-প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
সিএমসিসিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলায় প্রায় ২৪০টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী এবং আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে একই সময়ে একই মাঠে দুই চেম্বারের মেলা আয়োজনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ এবং সর্বশেষ প্রস্তুতিমূলক কাজে হামলা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মেলা আয়োজন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন