১৩ অক্টোবর ২০২৬

মদ বিক্রেতা অনুপ বিশ্বাসের স্ত্রীর ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামে রুমা বিশ্বাস নামে এক নারীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত: রুমা বিশ্বাস হচ্ছেন, চট্টগ্রামের আলোচিত মদ ব্যবসায়ী প্রয়াত অনুপ বিশ্বাসের স্ত্রী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত নথিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, রুমা বিশ্বাসের নামে সর্বশেষ ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় ১১ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৪ টাকা। একই সময়ে তাঁর বৈধ আয়ের পরিমাণ, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দেওয়ার পর, দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৮ টাকা। ফলে সম্পদ অর্জনের বিপরীতে বৈধ আয়ের ঘাটতি হিসেবে ১০ কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৬ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, রুমা বিশ্বাসের আয়কর নথি, সম্পদ অর্জন ও ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে এ অসংগতি পাওয়া গেছে। তিনি ব্যবসা, গৃহসম্পত্তি ও বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্জিত সম্পদের তুলনায় তাঁর বৈধ আয়ের পরিমাণ কম হওয়ায় সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নথিতে রুমা বিশ্বাসকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নামে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, এনআরবি এন্টারপ্রাইজ, সি পি স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টার এবং এনআরসি কোল্ড স্টোরেজ।

দুদকের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্পদ অর্জনের সময়কাল ১৩ নভেম্বর ২০০৮ থেকে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত। এ সময়ের সম্পদ, আয় ও ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নথিতে অভিযুক্ত রুমা বিশ্বাসের স্বামী হিসেবে অনুপ বিশ্বাসের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ৯ নম্বর ফিরিঙ্গি বাজারের একটি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা রুজুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন