প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পবিত্র কালাম ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি। ২০২০ সালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২০ সালে শিক্ষার্থীদের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়া ও পবিত্র কালাম ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে। ভিডিওটি ঘিরে তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পুরোনো ভিডিওটি সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অসুস্থ ও কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে ইব্রাহিম রনি নিজের ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি পবিত্র কালাম নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়েছে— এমন অভিযোগে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের প্রভাব বিস্তারের মধ্যে ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে শিবিরের পরিচয়ে সামনে আসেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন বলেন, অসুস্থ ও কারাবন্দী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নেত্রীকে নিয়ে এমন বিদ্রূপ অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন সময়ে নিজেদের ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ প্রমাণ করতে বেগম খালেদা জিয়াকে হাসির খোরাক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অথচ এখন কেউ কেউ নিজেদের আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারকারী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কোটি মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁর প্রতি বিদ্রূপ একজন নেত্রীর প্রতি অসম্মানের পাশাপাশি দেশের মানুষের অনুভূতিতেও আঘাত করে। এ ঘটনায় দেশবাসী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুরোনো ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা যুক্ত করা হবে।














