ইবাদত হোসেনের বাউন্সার ইকরাম আলীখিলের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল। ডান দিকে ডাইভ দিয়ে লিটন দাস তাঁর যে ক্যাচটি নিলেন, সেটা মনে রাখার মতো। শুধু এই ক্যাচ নয়, আবুধাবি টেস্টে ব্যাট এবং কিপিং–গ্লাভস হাতে লিটনের পারফরম্যান্স দর্শকের মনে গাঁথা থাকবে অনেক দিন। লেখা থাকবে রেকর্ড বইয়েও। লিটন যে ওই ক্যাচটি নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন!
আজ টেস্টের পঞ্চম দিনে সকালের সেশনে শেষ দিকে ইকরামের ক্যাচটি ছিল এই ম্যাচে উইকেটকিপার লিটনের ৯ম ডিসমিসাল। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১০২ রানের ইনিংস। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে একটি ম্যাচে দুবার ৫০+ রান ৯টি ডিসমিসাল করলেন লিটন। আগের রেকর্ডটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের।
১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসে ৫০+ রানের সঙ্গে ৮টি ডিসমিসাল করেন লিন্ডসে। সে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৬৯ এবং পরের ইনিংসে ১৮২ রান করেন লিন্ডসে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৬টি ক্যাচ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাচ নেন দুটি।
আবুধাবি টেস্টে এ পর্যন্ত ৮টি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিং করেন লিটন।টেস্টে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাঁকে। ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত আপাতত সেই রেকর্ডের যৌথ ভাগিদার। তিনজনই এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি করে ডিসমিসাল করেন। তাঁদের পাশে বসতে আর ২টি ডিসমিসাল চাই লিটনের। রেকর্ডটি ভাঙতে চাই ৩টি ডিসমিসাল।
ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার রাসেল ১৯৯৫ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করেন। ১৮ বছর পর সেই একই ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে রাসেলের রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া কিংবদন্তি ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৮ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করে তাঁদের পাশে বসেন পন্ত।
টেস্টে এক ম্যাচে উইকেটকিপারদের ৯টি ডিসমিসাল আজসহ মোট ৩১ বার দেখা গেল। ১০টি ডিসমিসাল দেখা গেছে পাঁচবার। গতকাল পর্যন্ত ৮টি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন লিটন। আগের রেকর্ডটি ছিল খালেদ মাসুদের। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি ডিসমিসাল।














