১৪ অক্টোবর ২০২৬

তদন্ত ও অভিযানে পিবিআই

শিকলবাহা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের আড়াই মাস পর তদন্তে নতুন মোড়

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা খাল থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামে এক নারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার আড়াই মাস পর তাঁদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিহতের মা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোহাম্মদ মুসলিম (৩৫), পেশায় সিএনজিচালক, এবং মোহাম্মদ শুক্কুর, যিনি ব্রিজঘাট এলাকায় সাম্পান চালান। তাঁদের দুজনের বাড়ি কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকায় বলে জানা গেছে।

গত ১ আগস্ট শিকলবাহা খাল থেকে জান্নাতুলের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের দিন নৌ পুলিশ ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের মধ্যে মামলার তদন্ত ও অধিক্ষেত্র নিয়ে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরে দুই দিন পর পরিবারের সদস্যরা লাশটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জান্নাতুল চট্টগ্রাম নগরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। পরে তিনি শিকলবাহা এলাকার রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য।

সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় জান্নাতুলের টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর জান্নাতুলের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতুলের স্বর্ণালংকার শিকলবাহা আমেনা রহমান স্কুলের পাশের একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্রির টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মদ পান করেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই চলমান রয়েছে।

ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের দাবি, গ্রেপ্তার শুক্কুর সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, শুক্কুরের বোনজামাই তাঁর সাম্পান নিয়ে এ ঘটনায় জড়িয়েছিলেন। পরে অপরাধসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুক্কুরের কথোপকথনের সূত্র ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন যুবকের দাবি, পিবিআই তদন্ত শুরু করার পর রাজা মিয়া এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জান্নাতুলের মা বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমাকে ফোন করা হয়েছে। আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। আমাকে যেতে বলেছে। আমি শহরের তেমন কিছু চিনি না। তাই আমার আরেক মেয়ের জামাই ২০ তারিখে এলে যাব বলে জানিয়েছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজের পরিচয় ও আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে তাঁকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তখন রাজা মিয়ার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই বলে জানানো হয়েছিল, অথচ এখন তাঁর আত্মীয়স্বজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আপাতত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রো পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জান্নাতুলের লাশ উদ্ধারের আড়াই মাস পর তদন্তে অগ্রগতির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না।

আরও পড়ুন