১৯ অক্টোবর ২০২৬

৯৯৯-এ ফোন

নাইক্ষ্যংছড়িতে অভিযোগ তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, দম্পতি আটক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া অভিযোগের তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, টানাহেঁচড়া ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের কাছে থাকা লিখিত অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলা এবং ক্লিপবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাফর আলম (৫৭) ও তাঁর স্ত্রী দিলনূর বেগমকে (৪০) আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা ও একটি বটি জব্দ করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রোববার সকাল ১১টা ১২ মিনিটের দিকে রফিকুল ইসলাম (২৫) নামের এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করেন, জাফর আলম, তাঁর স্ত্রী দিলনূর বেগম ও আরিয়ানসহ কয়েকজন তাঁকে রামদা দিয়ে মারধর করে জখম করেছেন এবং আটকে রেখেছেন।

এ খবর পাওয়ার পর নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এর মধ্যে অভিযোগকারী থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

পুলিশের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জাফর আলম, দিলনূর বেগম ও আরিয়ান উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশ সদস্যদের টানাহেঁচড়া ও মারধর করেন। পুলিশের ক্লিপবোর্ডে থাকা লিখিত অভিযোগটি ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ক্লিপবোর্ডটি ভেঙে দুই টুকরা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দিলনূর বেগম ও তাঁর ছেলে আরিয়ান রামদা হাতে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার জন্য এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ সদস্যরা কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় এবং ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি রামদা ও একটি বটি জব্দ করা হয়। জাফর আলম ও দিলনূর বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নিতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

আরও পড়ুন