২০ অক্টোবর ২০২৬

চসিকের ২৪ কোটি টাকা লোপাট, সাবেক হিসাব কর্মকর্তাসহ ৩ জন কারাগারে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় নতুন মোড় এসেছে। জাল আমমোক্তারনামা তৈরি, ভুয়া ব্যাংক হিসাব খোলা এবং প্রকল্পের বিলের অর্থ অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক কুমিল্লা শাখাপ্রধান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংকের একই শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল। আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মোকাররম হোসাইন জানান, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্ট কানেক্টিং সড়কের অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত একটি অংশ সংস্কারের কার্যাদেশ পেয়েছিল মেসার্স রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমেদ (জেভি)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন জাকির হোসেন। ওই দলিল ব্যবহার করে নিজেকে রানা বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে চসিকের কাজের কার্যাদেশ নেন তিনি। এরপর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) কুমিল্লা শাখায় রানা বিল্ডার্সের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ২০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। সুদসহ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১৯ টাকা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী, চসিকের কাছ থেকে কাজের বিল বাবদ পাওয়া অর্থ দিয়ে ঋণ সমন্বয় করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে এনআরবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় আরেকটি হিসাব খোলা হয়।

চসিকের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের বিলের অর্থ ইউসিবির কুমিল্লা শাখায় পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নিয়মবহির্ভূতভাবে এনআরবি ব্যাংকের অনুকূলে ছয়টি চেক ইস্যু করেন। এসব চেকের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ