২ নভেম্বর ২০২৬

সনদনির্ভর নয়, গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু সনদ ও চাকরিভিত্তিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষাদান নয়। যারা শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হবেন, তাঁদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না করে কর্মসংস্থানভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের একটি বড় অংশের জনশক্তি শিক্ষিত বেকারত্বের শিকার। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেধা ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই।

আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ এসব প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে শিল্পকারখানার স্থানান্তর ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে প্রস্তুত হতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। বাংলাদেশ যেন কেবল অন্য দেশের পরিত্যক্ত শিল্পের বিকল্প গন্তব্যে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছিলেন শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি পুনরায় উত্থাপিত হয় এবং জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক অনেক কাজের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে দেশের স্বার্থে একটি সরকারের শুরু করা ভালো কাজ পরবর্তী সরকারগুলোরও অব্যাহত রাখা উচিত। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়েও অবগত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাবির নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন করা উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো শিক্ষা। যে জাতির লাইব্রেরি, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ যত বেশি, সে জাতির সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চাই, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এখন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের তরুণেরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন।

বক্তব্যের শেষাংশে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ