৭ নভেম্বর ২০২৬

মিরসরাই ইকোনমিক জোনে করোনার থাবা, স্থবির কার্যক্রম

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »

শুধু মাত্র দেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ইকোনোমিক জোন মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে করোনায় থাবায় স্থবির হয়ে গেছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ছোট থেকে বড় সব প্রকল্পের কাজ বন্ধ বললেই চলে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পে বিদেশি জনবল রয়েছে সেগুলো গত মার্চ মাস থেকেই তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। ফলে এর প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে ইকোনিক জোনের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের মাঝে। অনেকটা নির্জীব হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। বিপাকে পড়েছেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই।

তবে ঠিকাদারদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ বলে জানা যায়। কেননা এসব ঠিকাদাররা বিভিন্ন পণ্য, কাঁচামাল ও নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেও বিল তুলতে পারেননি। আর তাই বিলের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় পরিশোধ হয়নি শ্রমিকের মজুরি কিংবা চাকুরিজীবীদের বেতন।

মিরসরাই ইকোনমিক জোনের এমনই এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন। তিনি জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকার মালামাল সরবরাহ করছেন চাইনিজ একটি কোম্পানিতে। তবে চলমান এই সংকটে এই মূলধন এবং মুনাফা উভয় আটকে গেছে সেখানে।

অন্যদিকে আরেক ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন পড়ে গিয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দে। না পারছেন মূলধন তুলে নিতে, না পারছেন লভ্যাংশ নিতে।

এ প্রসঙ্গে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই- প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছুতে একটা খারাপ প্রভাব পড়বে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। সংক্রমণ কাটিয়ে ওঠা অনেক দেশ থেকে ইতোমধ্যে অনেক বৈদেশিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। আশা করছি সংকট কাটিয়ে উঠলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।

তবে সময়মতো ঠিকাদারদের এবং বিনিয়োগকারীদের বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি। এমনকি এই ব্যাপারে কিছু বলার এখতিয়ার নেই বলে তিনি জানান।

সবকিছু মিলিয়ে করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের লেনদেন। স্থবির ইকনোমিক জোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আটকে গেছে শত কোটির টাকা লভ্যাংশ ও মূলধন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন