৭ নভেম্বর ২০২৬

লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজে নেই অগ্রগতি

বাংলাধারা প্রতিবেদন >>

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় ৫৮ একর ভূমিতে লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ করার কথা রয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি সাত বছর আগে অনুমোদিত হয়েছিল, কিন্তু এখনও এই প্রকল্পের কাজে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও লালদিয়ার চরে বসবাসরতদের অন্যত্র পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়েছে।

বন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের বড় বাধা লালদিয়ার চরে উচ্ছেদ অভিযান। কারণ প্রকল্পটি যে এলাকায় বাস্তবায়িত হবে সেই এলাকায় অন্তত ১৭০০ পরিবার বসবাস করে আসছে। এ পরিবারগুলো এর আগে পতেঙ্গা বিমানবন্দরের কারণে নিজেদের ভিটেমাটি থেকে একবার উচ্ছেদ হয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লালদিয়ার চরে বসতি স্থাপন করে। লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের জন্য একাধিকবার নোটিস দেওয়া হলে তারা যে কোনো মূল্যে উচ্ছেদ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই বাস্তবতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ওই জয়গায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা আদৌ সম্ভব কি না তা নিয়ে রয়েছে মহা অনিশ্চয়তা। যদিও এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১১ মার্চ ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স লালদিয়া প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। প্রথমদিকে এটাকে শুধু বাল্ক টার্মিনাল করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, বাণিজ্য ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে লালদিয়া টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা জরুরি।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রকল্প পরিচালনা ও অর্থ) মোঃ রবিউল আলম বলেছেন, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পটি বর্তমানে দরপত্রের পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচটি সংস্থা এই প্রকল্পের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ছিল। প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। পরিবারগুলি জমি থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা এখন লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে কাজ করছি না। আর এই প্রকল্পে কিছু জটিলতাও রয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন