৭ নভেম্বর ২০২৬

মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে রাখাইন যুবকের উপর চরম বর্বরতা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

কক্সবাজারে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে এনে লাইন রাখাইন নামের এক যুবকের উপর চরম বর্বরতা চালিয়েছে চিহ্নিত অপরাধীরা। পেছনে হাত বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রকাশের পর এ ঘটনা জানাজানি হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সকল ধর্মের মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কের ডিজিটাল হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। 
নির্যাতিতদের শিকার এনে লাইন রাখাইন (২৫) কক্সবাজার পৌর শহরের  বড় বাজার রাখাইন পাড়ার একজন স্বর্ণ শিল্পী ও দুবাই প্রবাসী।

ভুক্তভোগী এনে লাইন রাখাইন বলেন, আমি  দোকানের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে হাটার জন্য বের হয়। হাটতে হাটতে হাসপাতাল এলাকায় আসার পর পেছন থেকে এক যুবক এসে আমাকে মোবাইল চোর বলে বেধড়ক মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে শহরের মোহাজের চিহ্নিত ছিনতাইকারী শহিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে তার আরও তিন সহযোগী মিলে আমাকে বেঁধে রাস্তায় বলেন বর্বর নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম বাবু এবং তার ৩ সহযোগীর বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন উল্লেখ করে নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে শহীদুল ইসলাম বাবুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মোহাজের পাড়ার কয়েক যুবক জানান, এসব নতুন ঘটনা নয়। এদিকে, এ ঘটনায় শহরের রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠেছে। পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মালাউ রাখাইন বলেন, রাখাইন সম্প্রদায় শান্তি প্রিয় মানুষ। আমরা সংখ্যায় কম বলে কি এমন গর্হিত আচরণ করা হয়েছে? আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে  সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন বলেন, স্বর্ণ শিল্পি লাইন লাইন রাখাইনকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে অতি নিষ্ঠুর, অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে নির্যাতনের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে তা কোন সভ্য সমাজ এবং কোন ধর্মের মানুষ মেনে নিতে পারবে না এবং মেনে নিবেও না। তিনি আরো বলেন, ধরে নিলাম লাইন লাইন রাখাইন অপরাধী। এমনটি হয়ে থাকলে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইন আছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারতো। তা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে অমানবিক নির্যাতন কেন? এ নিষ্ঠুর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি দাবি জানান সাবেক এ এমপি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি, মামলা প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু ভিডিওটি দেখেই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ