বাংলাধারা প্রতিবেদন»
ওরা আর সব সাধারণ শিশুর মতো নয়। এ বয়সে ওদের কেউ মায়ের কোলে,কেউ স্কুলে থাকতে পারতো। থাকতে পারতো পরিবারের অটুট বন্ধনে কিন্তু নিয়মিত ফেরে এসব কিছুই পাওয়া হয় না ওদের। ওরা রাস্তায় ঘুমায়। পথে পথে ঘোরে। ক্ষুধার দায়ে রাস্তায়ই বেছে নেয় জীবিকার পথ।
কিন্তু সব পথশিশুদের জীবন একিরকম নয় কিছু সংখ্যক পথশিশুদের চিত্র ভিন্ন। টেলোইন, বেনজির, এসিটোন ও কার্বনড্রাই ফ্লোরাইন মিশ্রিত বিভিন্ন গাম এই পথশিশুরা গ্রহণ করছে। এসব গামের টেলোইনে মূলত নেশা হয়। অপরদিকে বাবা,মা দুজনকেই হারিয়ে অনেকে মাথা গুজার ঠাই নেয় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। মানুষ থেকে টাকা নিয়ে জোটে তাদের খাবার
অনেক চেষ্টার পরেও এ দেশে সড়কে থাকা শিশুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েইে চলেছে। পরিবারের সঙ্গে সড়কে থাকা শিশুর চেয়ে একা একা বা দল বেঁধে থাকা শিশুদের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। মূলত দারিদ্রের কারণে শিশুরা পথশিশুতে পরিণত হচ্ছে।এছাড়া বাবা,মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ বা একাধিক বিয়ে, তাদের মৃত্যু, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং হারিয়ে যাওয়াসহ নানা কারনে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিশুরা পরিণত হয় পথশিশুতে।
উদ্বেগের বিষয়, দেশে পথশিশুর সংখ্যা কতো- এর কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে বেসরকারি এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ২৫ লাখ। এরমধ্যে আড়াই থেকে তিন লাখেরও বেশি পথশিশুর অস্থায়ী আবাস রাজধানী ঢাকার পিচঢালা পথে। এসব পথশিশু সমাজ-সংস্কৃতির কোন সুবিধা পাচ্ছে না। অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। সমাজের দুষ্টচক্রের সাথে নিয়তই তাদের ওঠাবসা। ছেলে শিশুদের ব্যবহার করা হয় মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। মেয়ে পথশিশুদের অধিকাংশই অল্প বয়সে পতিতাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
দেখুন» পথ শিশুদের জীবন যেন বঞ্চনার
সোশ্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগাম (সিপ) নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ‘পথশিশুদের অমানবিক জীবন ও বিভিন্ন সমস্যা শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থের অভাবে পথশিশুদের ৭৫ ভাগ ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না। অসুস্থ হলে তাদের প্রায় ৫৪ ভাগের দেখাশুনার জন্য কেউ নেই। পথশিশুদের প্রায় ৪০ ভাগ প্রতিদিন গোসল করতে পারে না। আর ৩৫ ভাগ শিশু খোলা জায়গায় পায়খানা করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠে তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখ। অথচ ক্রমবর্ধমান এ শিশুদের কল্যাণে নেই কোন নীতিমালা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্র মতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিশু সনদ, শিশু আইনসহ দেশের প্রচলিত আইনে প্রতিটি শিশু তাদের সুষ্ঠু শারীরিক ও মানসিক বিকাশ লাভের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা, খাদ্য ও পুষ্টি, বিনোদন পাওয়ার অধিকার রাখে। শিশুদের সব ধরনের নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে এসব সনদ ও আইনে । কিন্তু আমাদের দেশের পথশিশুরা এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস













