৬ নভেম্বর ২০২৬

আনোয়ারায় জুঁইদন্ডী ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়

আনোয়ারা প্রতিনিধি »

আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। সকাল থেকেই প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নারী পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। যথাসময়ে বিকাল চারটায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

পরে ভোটগণণা শেষে উপজেলা হলরুমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার মোহাম্মদ ইদ্রিচ ৮ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সিএনজি প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৮ ভোট। এবারের জুঁইদন্ডী ইউপি নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৮৬২। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৩ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে, ভোট শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন বিদ্রোহী প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষণা দেন।

রাশেদুল ইসলাম এসময় অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগের দিন আমার ওপর হামলা করা হয়। আমি কোনো মতে বেঁচে গেলেও আমার গাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় আমার সাথে থাকা বিভিন্ন নির্বাচনী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিড়ে ফেলা হয়। নির্বাচন শুরুর পর থেকে সকল কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। বহিরাগত ও স্থানীয় লোকজন দিয়ে আমার সমর্থক ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। এটা কোনো নির্বাচন হতে পারে না। এটা নির্বাচনের নামে মানুষের অধিকার হরণ। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বার বার অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেনি। আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাই।

এদিকে সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট চোখে পড়েনি। তবে সকল ইউপি সদস্যদের এজেন্ট উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর লোকজন শিখিয়ে দেয়ার নামে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চিত্রও দেখা গেছে।

নৌকার প্রার্থী মাস্টার মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমাদানের দিন থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদের সাথে কোনো লোকজন ছিল না। তিনি নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মত কোনো এজেন্ট খুঁজে পায়নি। দীর্ঘদিন পর সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ায় নৌকার পক্ষে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই গণস্রোতেই বিদ্রোহী প্রার্থী ভেসে গিয়ে নির্বাচন বর্জন করে নানা অজুহাত তুলছেন। ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সার্বিক সহযোগিতায় আমাকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। তাই ইউনিয়নের মানুষ জেনেশুনে উন্নয়নের পক্ষে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এবং ভূমিমন্ত্রীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

আনোয়ারা থানার ওসি এসএম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি, রিজার্ভ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির বিশাল একটি বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’

উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুশ শুক্কুর বলেন, ‘প্রথমবার ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত জুঁইদন্ডী ইউপি নির্বাচনে আশাব্যাঞ্জক ভোটার উপস্থিত হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। রাতে সকল কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। পরে গেজেটের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ