বাংলাধারা প্রতিবেদক »
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা মো. রানা ও পলাশের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতারা দলবল নিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ব্যবসায়ীর কাছে থাকা স্বর্ণের চেইন ও নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, রানা ও পলাশ দু’জনই পতেঙ্গা থানা যুবলীগ নেতা সমীর মহাজন লিটনের অনুসারী। তাদের মধ্যে পলাশ পতেঙ্গা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. আরিফ হোসেন (২৯) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে নগরীর ইপিজেড থানা মামলা (মামলা-২০) দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলো— মো. রানা (২১), মো. হাসনাত (৪২) মো. জয়নাল (৪৭), পলাশ (৩০) ও স্বপন। এছাড়া অজ্ঞানামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর আসামি রানা ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনকে ফোন করে তার সাথে দেখা করতে বলে। ওইদিন ব্যবসায়ী আরিফ তাদের সাথে দেখা করে। এসময় উপস্থিত আসামি রানা ও পলাশ মাসিক চাঁদা বাবদ এক লাখ দাবি করে। ব্যবসায়ী আরিফ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা মারধর ও বিভিন্ন ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এমনকি চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেয়।
তাদের এমন হুমকি-ধমকির কারণে ব্যবসায়ী আরিফ গত ২৩ ডিসেম্বর পতেঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৯৯৬) করেন। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইপিজেড থানার গুপ্তখাল ৯ নম্বর ঘাটে লাঠিসোটা ও লোহার পাইপ দিয়ে ওই ব্যবসায়ী বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ব্যবসায়ীর গলায় থাকা এক ভরি স্বর্ণের চেইন ও পরিহিত শীতের কোটের পকেটে থাকা নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এমনকি এ ঘটনায় কোন ধরনের মামলা-মোকদ্দমা করলে আবারও মারধর ও হত্যা হুমকি দেয় তারা।
পরে ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই ঘটনায় ইপিজে থানায় মামলা করেন। এদিকে মামলা দায়েরের ১৫ দিন হয়ে গেলেও আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, আমি চাই আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক। মামলা করার অর্ধমাস অতিবাহিত হলেও আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আশা করবো, প্রসাশন যেন আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনেন।
এ বিষয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবিরুল ইসলাম বলেন, মামলার অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ব্যপারে অইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তবে আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।














