৬ নভেম্বর ২০২৬

পণ্য দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, ‘প্রতারক’ আটক

বাংলাধারা প্রতিবেদন»

অনলাইনে মালামাল এনে দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এস এম তানভিরুল আলম (২৫) নামে এক ‘সাইবার প্রতারককে’ আটক করেছে র‌্যাব-৭। আটক তানভীরুল চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী গ্রামের এস এম শাহ আলমের ছেলে। এসময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রীন শর্টের ২৫ কপি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

শনিবার (১২ মার্চ) রাত পৌনে ৯টায় নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাহাত্তরপুল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এক ব্যক্তি গত ১৭ জানুয়ারি ‘চাইনিস প্রোডাক্ট ইমপোর্টার ইন বাংলাদেশ’নামে একটি ফেসবুক পেজে শীতের পণ্যের চাহিদা চেয়ে একটি পোস্ট দেন। তার দেয়া পোস্টে এস এম তানভিরুল আলম নামে এক ব্যক্তি তাকে ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভুক্তভোগী ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে ২০ হাজার টাকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য ক্রয় করার কথা বলেন। পণ্যের দামের ৫০ শতাংশ অগ্রিম প্রদান করে বাকি টাকা পণ্য হাতে পেয়ে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় তানভীর পাসপোর্ট, চাইনিজ ভিসা ও আইডি কার্ডের ছবি তার ম্যাসেঞ্জারে পাঠায়। পণ্যের মূল্য বাবদ অগ্রিম টাকা বিকাশে পাঠানোর জন্য বলেন তিনি। সে অনুযায়ী ভুক্তভোগী ১০হাজার ৭৫ টাকা বিকাশে পেমেন্ট করেন। পরে ২ ফেব্রুয়ারি তার দেয়া নম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ করেন এবং আমাদেরকেও অবহিত করেন। এ ঘটনায় র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেন। এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টায় রাহাত্তরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এস এম তানভিরুল আলমকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নুরুল আবছার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর জানায়, অনলাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে তানভীর প্রতারণা করেছে। এছাড়া চায়না থেকে পণ্য এনে দেওয়ার কথা বলে চায়না ভিসা ও পাসপোর্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন করে অনেক লোকের কাছ থেকে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।

তিনি আরও জানান, তানভীর মূলত একজন সাইবার অপরাধী যার ফেসবুক কেন্দ্রিক ব্যবসা রয়েছে। করোনা মহামারীকে কাজে লাগিয়ে সে তার ‘বিদেশি পণ্য সরবরাহের ব্যবসা’গড়ে তুলেছে। সে লোভনীয় মূল্যে অসংখ্য পণ্যের অফার করেছে, সেই পণ্যগুলির জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও নিয়েছেন। কিন্তু গ্রাহকদের তা সরবরাহ করেনি। সে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিম্নমানের পণ্য পাঠাচ্ছে এবং প্রায়ই আসল পণ্য না দিয়ে তার পরিবর্তে আলু, পটল, পেঁয়াজ বা সাবানের মতো পণ্য পাঠিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। বিকাশের টাকা গ্রহণের জন্য সে নিজের নাম্বার ব্যবহার না করে তার পরিচিত নিরক্ষর এবং নিম্ন আয়ের লোকদের মোবাইল নাম্বারকে তাদের অজান্তেই বিকাশ নম্বর হিসাবে ব্যবহার করে। যখন কেউ টাকা পাঠায়, তখন বিকাশ অ্যাকাউন্টধারীকে বলে যে কেউ তার চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন