৬ নভেম্বর ২০২৬

বাড়বকুন্ডে রাস্তা ছাড়া ব্রীজ নির্মাণ , কাজে আসছে না ১২ লক্ষ টাকার কালভার্ট

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি»

চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডের ৫ নং বাড়বকুন্ড ইউনিয়নে জনগনের সুবিধার কথা না ভেবে,এক জনপ্রতিনিধির জায়গার মূল্য বৃদ্ধির জন্য অ-প্রয়োজনী স্থানে কালবার্ট নির্মান করায় এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। এতে কয়েক প্রায় ১২ লক্ষ টাকায় কালভার্ট নির্মিত হলেও কোনো কাজে আসছে না এলাকাবাসীর। রাস্তা নির্মান ছাড়া সেতু নির্মাণ দেখে অবাক হয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থ অপচয় করে অকারণে কালভার্ট নির্মাণে প্রশ্ন তুলেছে সবাই। তাছাড়া জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত স্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্হানীয় বেলাল উদ্দীন জানায়, ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের অধীনে সীতাকুন্ডের বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়ায় উলানিয়া খালের উপর ২০১৬ সালে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলা সরকারী প্রকল্পের অধীনে রাস্তাশূন্য খালের উপর প্রায় ২৪ ফুটের কালভার্টটি নির্মান করে স্থানীয় ঠিকাদারী একটি প্রতিষ্ঠান। ব্রীজনির্মানস্হানের পূর্ব এক অংশে গ্রাম্য রাস্তার কিছু অস্হিত্য থাকলেও অপর অংশে রাস্তা না থাকায় জনগনের কাজে আসেনি কালভার্টটি। অপর প্রান্তে কৃষি জমি ও দুই ফুটের আইল এতে সিম গাছ লাগানো রয়েছে।দীর্ঘ বছর পড়ে থাকতে থাকতে জীর্ন দশায় দেখা দিয়েছে কালভার্টের একাধিক অংশে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের এক অংশে জীর্ণ শীর্ণ মাটির রাস্তা। তাও কালভার্টের থেকে কয়েক ফুট নীচে । অন্য দিকে কোন রাস্তার অস্তিত্বই নেই। আছে নাল জমি আর জমির আইলে আছে বিভিন্ন গাছ । কালভার্ট আর জমির মধ্যে উচ্চতা প্রায় ৮/১০ ফুট উচুঁ হওয়ায় লাফ দিয়ে নামতে হয় জমিতে ।গরু ছাগল নেয়া যায়না,গরু ও মানুষ খালে নেমেই পারাপার হতে দেখা যায় ব্রীজের থেকে নামান অসুবিধার কারনে।

স্হানীয় মিয়াজী পাড়ার লোকজন বলেন, কালভার্টের এক অংশে রাস্তা না থাকায় জনগনের কোনো উপকার হচ্ছে না। তাছাড়া ভবিষ্যতে রাস্তা হওয়ার সম্ভবনা ও নেই। শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধির ব্যাক্তিগত জমির মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এটি নির্মান করা হয়েছে বলে জানান তারা। আর এভাবে অপ্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মান করে সরকারী অর্থে ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে।

তারা বলেন , উপজেলার অনেক স্থানে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। অথচ সরকারি অর্থ আত্মসা‌তের জন্য এই সেতু নির্মাণ করেছেন ।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী বলেন, রাস্তা না থাকলেও কৃষকের জন্য উপকার হয়েছে।ভবিষ্যতে কৃষি কাজের উন্নয়নের চিন্তা করে কালভার্টটি নির্মিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ইউএনও মোঃশাহদাৎ হোসেন এর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই ব্রীজ নির্মান সম্পর্কে আমি অবগত নই,আমি আসার পূর্বে নির্মাণ হয়েছে,কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে দেখবো ব্রীজ কি কারনে নির্মাণ হলো রাস্তা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।

আরও পড়ুন