চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নে গভীর রাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পাঁচটি মহিষ আনার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চারটি মহিষ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি মহিষ ঘাটে পড়ে থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাচারের মতো এবারও একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাগরপথ ব্যবহার করে মহিষ এনেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার মধ্যরাতে রায়পুর ইউনিয়নের উঠান মাঝির ঘাটে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পাঁচটি মহিষ আনা হয়। অন্ধকারের মধ্যে চারটি মহিষ দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি মহিষ ফেলে রেখে যায় সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার ভোরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা মহিষটি উদ্ধার করে গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেন। এরপর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিষটি থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পরিবর্তে পারকি এলাকার এক ব্যক্তি নিজেকে মালিক দাবি করলে সেটি তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে সাগরপথে আনা মহিষের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব বলেন, ‘বিদেশি মদ ও ইয়াবার মতো এখন মহিষও সাগরপথে আনা হচ্ছে বলে আমরা শুনছি। পাঁচটি মহিষের মধ্যে চারটি সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি পড়ে ছিল। পরে শুনেছি পারকি এলাকার এক ব্যক্তি মালিক দাবি করে মহিষটি নিয়ে গেছেন। সাগরপথে আনা মহিষের মালিক তিনি কীভাবে হলেন— এ প্রশ্নের উত্তর চাই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।’
গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয়রা একটি মহিষ আমার জিম্মায় দিয়েছিল। পরে থানা পুলিশের নির্দেশে দাবি করা মালিকের কাছে সেটি বুঝিয়ে দিয়েছি। মহিষটি কোথা থেকে এসেছে, তা আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘সাগরপথে পাঁচটি মহিষ আনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে একটি মহিষ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। পরে মালিক সেটি নিয়ে গেছেন বলে জেনেছি।’
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন আলোচনা সমালোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাঁচটি মহিষ কোথা থেকে এল, কারা সাগরপথে আনল, চারটি মহিষ কোথায় গেল এবং কীভাবে মালিকানা যাচাই করে একটি মহিষ হস্তান্তর করা হলো— এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।














