২৫ অক্টোবর ২০২৬

ঈদগাঁওতে চার সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালীতে বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার।

মৃত নারী কুলসুমা আকতার (৩২) ঈদগাঁওর পোকখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব নাইক্যংদিয়া এলাকার শ্রমজীবি হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। কুলসুমা- হেলাল তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা-মা। কুলসুমার বাবার বাড়ি রামু উপজেলার পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়ের কোনারপাড়ায়। ১৬ বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। ঘটনার সময় স্বামী হেলাল উদ্দিন দায়িত্বের খাতিরে সদরের খুরুশকুল এলাকায় চিংড়ি ঘেরে অবস্থান করছিল।

কুলসুমার মা রাজিয়া বেগম পুলিশকে জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে কুলসুমার সাথে মোবাইলে কথা হয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাসা থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় রান্না ঘরে সে প্লাস্টিকের রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সকালে মেয়ের বাসায় এসে তাকে বাড়ির বাইরে সোয়া অবস্থায় মৃত দেখেন তিনি।

পোকখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাতে জানান, স্বামী হেলাল উদ্দিন খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে। স্ত্রী কুলসুমা একটু খিটখিটে মেজাজের ছিলেন। স্বামী ও পরিবারের লোকজন সন্দেহ করতো কুলসুমা ফোন কোন পুরুষের সাথে কথা বলতো। আর স্ত্রী মনে করতো কর্মক্ষেত্রে স্বামী অন্যনারীতে বুদ ছিল। এসব নিয়ে কলহ থাকতে পারে। তবে, আত্মহত্যার মতো কি এমন ঘটেছিল তা অজানা সবার কাছে। মরদেহ মর্গ থেকে বাসায় আনা হয়েছে। আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাফনের কথা চলছে।

ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, মেয়ের অপমৃত্যুর বিষয়ে মা রাজিয়া বেগম ঈদগাঁও থানায় লিখিত দেয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসেন স্বামী হেলাল। দরিদ্র পরিবার হলেও খাবার-দাবার নিয়ে কোন সমস্যা ছিল না বলে জানিয়েছে মৃত নারীর অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটি।

ওসি আরো জানান, কোন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারে।

আরও পড়ুন