৮ নভেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে ৩৪ ভিক্ষুক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে রোজগারে জীবিকায়ন নিশ্চিত করণে প্রধানমন্ত্রীর উপহারিয় উপকরণ পেয়েছেন কক্সবাজার সদরের দুই ইউনিয়নের ৩৪ ভিক্ষুক। সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্কুল অরুণোদয় হলরুমে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্রে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৩৪ জন ভিক্ষুককে দিয়ে কক্সবাজারে এ যাত্রা শুরু করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারের জন্য প্রাথমিকভাবে দু’মাসের খাবার, চাহিদামতো জীবিকায়ন কাজে ব্যবহারের উপকরণ দেয়া হচ্ছে। উপকরণে রয়েছে হাঁস-মুরগি, ছাগল, রিক্সা ও সেলাই মেশিনসহ আরো বিভিন্ন পণ্য। অনেককে নগদ টাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করানো হচ্ছে।

সভায় অতিথিগণ বলেন, নবীজীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা। সেই দর্শন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্যোগ নিয়েছিলেন ভিক্ষা নয়, কর্মের আয়ে চলবে জীবন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সেই উদ্যোগ নিয়ে যখন কাজ শুরু করলেন তার কিছুদিন পরই বিপদগামীদের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন। এরপর পরনির্ভরশীলতা রোধে কোন উদ্যোগ নেয়নি পরবর্তী রাষ্ট্রযন্ত্র।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর নেয়া উদ্যোগগুলো আবার শুরু করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সারা দেশে কর্মহীন তথা ভিক্ষুকদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আর কক্সবাজারে দুইটি ইউনিয়নের ৩৪ ভিক্ষুককে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে জেলায়।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকে অগ্রবর্তী করতে জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের একদিনের বেতন দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এখানে জমা হওয়া প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এ টাকার সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অনুদান ৫০ লাখ টাকা যুক্ত করে ৯৮ লাখ টাকা হয়। এ ফান্ড থেকেই প্রথম যাত্রায় ৩৪ জনের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। ধীরে ধীরে পুরো জেলায় এ কার্যক্রম ছড়ানো হবে। সদরের পরে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া-টেকনাফে শুরু করবো এ যাত্রা। জেলায় এক হাজার ৫০১ জনকে ভিক্ষুক হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

ডিসি বলেন, যাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে তাদের তদারকি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দু’বছর পর্যন্ত তাদের পেছনে সময় দিয়ে আর যেন ভিক্ষায় না ফেরে তা নিশ্চিত করা হবে। এভাবে কক্সবাজারকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষনা করা যায়। পর্যটনের স্বার্থে এটি অতীব জরুরি। এ উদ্যোগে প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানান তিনি।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার সুইটি’র সভাপতিত্বে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা তাহের, সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শামশুল হুদা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি নজিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর, প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১৭ জন এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১৭ জন ভিক্ষুক প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার পেয়েছেন।

এসময়, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুল, পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও উপকারভোগীসহ তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ