২৫ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার আন্তঃউপজেলা গোল্ডকাপের শিরোপা রামুর

দীর্ঘ স্থবিরতার পর কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফিরিয়ে শেষ হলো আন্তঃউপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে চকরিয়া উপজেলা দলকে ট্রাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জেলার এই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রামু উপজেলা ফুটবল দল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হয় রামু ও চকরিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় ট্রাইব্রেকারে।

ট্রাইব্রেকারে রামুর গোলরক্ষক মোহাম্মদ শামীম দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে চকরিয়ার দুটি শট ঠেকিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে রামু।

শিরোপা জয়ের পর রামু দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর চকরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আনন্দে বিজয় উদযাপনে অংশ নেন রামুর ফুটবলপ্রেমীরাও।

ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে রামুর গোলরক্ষক মোহাম্মদ শামীম ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন। রামুর ইমন বড়ুয়া হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন জাহেদ। ফেয়ার প্লে দলের পুরস্কার পেয়েছে মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতি।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহিদুল আলম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. ইউনুসসহ জেলা ক্রীড়াঙ্গনের সাবেক ও বর্তমান সংগঠকেরা।

ফাইনালকে ঘিরে দুপুরের আগেই স্টেডিয়াম এলাকায় দর্শকদের ভিড় জমে যায়। নির্ধারিত স্থান থেকে টিকিট সংগ্রহ করে খেলা শুরুর আগেই গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ধারণক্ষমতার কারণে টিকিট না পাওয়া বিপুলসংখ্যক দর্শক স্টেডিয়ামের বাইরেও অবস্থান করেন। ৫০ টাকা মূল্যের টিকিটে দর্শকেরা গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করেন।

আয়োজকেরা জানান, গত বছরের জেলা প্রশাসক ফুটবলের ফাইনালে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে এবারের টুর্নামেন্টে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মাঠ ও গ্যালারিতে দায়িত্ব পালন করেন আয়োজক কমিটির দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।

২২ আগস্ট নকআউট পদ্ধতিতে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০টি উপজেলা—কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, মাতামুহুরি, মহেশখালী, ঈদগাঁও, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর অংশ নেয়। প্রতিটি দলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিনজন অতিথি খেলোয়াড় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।

আয়োজকেরা জানান, খেলোয়াড় সমিতির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ট্রফি, মেডেল ও ৪০ হাজার টাকা। রানার্সআপ দল পেয়েছে ট্রফি, মেডেল ও ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা গোলরক্ষকের জন্যও ছিল পৃথক পুরস্কার।

দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবল মাঠে ফেরায় কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারদের অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিল ফুটবল উন্মাদনা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ হওয়ায় অংশগ্রহণকারী দল, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শাহজাহান আনসারী, সদস্য সচিব রুহুল আমিন রকি এবং জেলা খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি জাহেদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ।

আরও পড়ুন