চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন অংশে দানবের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে শতাধিকের বেশি। যেখানে আরও অর্ধশতাধিক গাছ রয়েছে মৃত। এসব গাছের মালিক সড়ক ও জনপদ বিভাগ। গাছগুলো জড়ো হাওয়া আসলেই ভেঙে পড়ে সড়কের উপর চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীর উপর।
কাপ্তাই সড়কের দুপাশে থাকা গাছের ডালপালা ভেঙে সড়কে পড়ে প্রাণহানির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ভারী বর্ষণের তাণ্ডবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে আহতের ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সম্প্রতি গত শনিবার (৫ আগস্ট) কাপ্তাই সড়কের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে একটি বড় আকৃতির গাছ ভেঙে পড়ে সিএনজি অটোরিকশার উপর। সবজি বহনকারী সেই সিএনজিতে থাকা চালক কোনোভাবে বের হয়ে প্রাণে বাঁচেন। এরপর ভেঙে পড়ে চন্দ্রঘোনা কাটাখালী এলাকায়। সেখানেও গাছ পড়ে প্রায় দুই ঘন্টা যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, গত তিনদিনে ১০ টি গাছ ভেঙে পড়েছে সড়কে। তারমধ্যে ৯টি কাপ্তাই সড়কে হওয়ায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গাছগুলো সরিয়ে নিলেই গাড়ি চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। ‘ভাই ফোন রাখতেছি মরিয়ম নগর এখন আবার গাছ পড়েছ ‘ এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় গাছ ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে আবারও ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
জানা যায়, কাপ্তাই সড়কের দুপাশের গাছগুলোর মালিক সড়ক ও জনপদ বিভাগ। যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে অর্ধ শতাধিক। গেল তিন দিনের মধ্যে কাপ্তাই সড়কের শুধু রাঙ্গুনিয়া অংশে গাছ ভেঙে পড়েছে ১০টিরও বেশি। তারমধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে সিএনজি অটোরিকশার উপর গাছ পড়লে চাপা পড়ে গাড়িটি। তবে প্রাণে বাঁচে গাড়িতে থাকা চালক।
এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন অলিগলিতে যখন-তখন ভেঙে পড়ছে গাছ। কারও মাথায় আবার কারও যানবাহনে। হালকা ঝড়ো হাওয়ায় সড়কে হুটহাট করে পড়ে এসব গাছ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলার দাবি জানিয়েছে পথচারী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশের শান্তিরহাট, বুড়ির দোকান, গোডাউন, ইছাখালী, মুহাম্মদপুর, চন্দ্রঘোনাসহ একাধিক রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্পটে সড়কের পাশে রয়েছে একাধিক শুকনো মরা গাছ। যা বাস-ট্রাকসহ বড় যানবাহন চালকদের সমস্যায় ফেলছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৩ অক্টোবর পোমরা বুড়ির দোকান এলাকায় শতবর্ষী গাছ ভেঙে পড়ে। এতে গাছের নিচে চাপা পড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ওই ঘটনায় সিএনজি চালক ও যাত্রী আহত হয়েছিল। এর আগে ৩ জুন উপজেলার গোডাউন বেকারি এলাকায় পড়ে আরও একটি বড় গাছ। গাছটি পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল অর্ধশতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি বাস।
সবমিলিয়ে প্রতিবছর নিয়ম করেই হুটহাট করে এভাবে গাছ ভেঙে পড়লেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি বলেই দায় সারছেন কর্মকর্তারা। যার কোনো ফলাফল বছর পেরিয়ে গেলেও দেখতে পাচ্ছেনা কাপ্তাই সড়কে প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করা সাধারণ মানুষেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাস্তার পাশের গাছগুলোর ডালপালা কেটে নিয়ে যায়। সেই গাছগুলোর গোড়ার অংশ আংশিক কেটে দেয়া হয়। এতে করে গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যায়। সড়কের পাশে থাকা অনেক গাছের শেকড় এভাবে কাটা পড়ে। গাছের গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় নড়বড়েও হয়ে পড়ে। এক সময় সুযোগ বুঝে মরা গাছগুলোও নিয়ে যায় তারা।
এছাড়া বয়সের কারণেও বেশ কিছু গাছ মরে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের তাণ্ডবেও কিছু গাছের ডালপালা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এ সড়কে অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আমরাও চাচ্ছি সড়কের পাশ ঘেঁষে থাকা এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে ফেলতে। কিন্তু আমরা যখনি কাটতে যাবো সেই মূহুর্তে পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন আমাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে। আর যেসব মরা গাছ রয়েছে সেগুলো থাকা উচিত নয়। তবে উপজেলার কো-অর্ডিনেটর মিটিংয়ে গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা গাছ গুলো সরিয়ে ফেলবো।












