১৭ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের ‘মৈত্রী অটোমোবাইল’ পানগাঁও দিয়ে আনলো সিগারেটের বড় চালান

চট্টগ্রামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পানগাঁও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। 

নগরীর চাঁদগাঁও থানাধীন আরাকান সড়কে অবস্থিত ‘মৈত্রী অটোমোবাইল’ নামক একটি মোটর পার্টস আমদানির ঘোষণা দিয়ে এসব সিগারেট নিয়ে আসে। আটক হওয়া এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পানগাঁও বন্দর থেকে চালানটি খালাসের কাজে জড়িত ছিল ঢাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ‘মিতুল ট্রেড লিমিটেড’।

পানগাঁও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাংলাধারাকে জানিয়েছে, আমদানিকারক মৈত্রী অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামভিত্তিক গাড়ির রিকন্ডিশন ও নতুন পার্টস সরবরাহে যুক্ত রয়েছে। মোটর পার্টস আমদানির আড়ালে এ পর্যন্ত কী পরিমাণ চালান খালাস করেছে এবং কী পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পানগাঁও কাস্টমস হাউসের কমিশনার বলেন, “মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে এই চালানের পেছনে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।”

তিনি আরও বলেন, “রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস সর্বদা সতর্ক রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বড় ধরনের কর ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জানা গেছে, পানগাঁও কাস্টমস হাউসে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে কাগজে-কলমে পুরনো মোটর পার্টস আমদানির ঘোষণা দিয়ে সিগারেটের চালান নিয়ে আসে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল বিকেলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের তল্লাশিতে মোটর পার্টসের স্তূপের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ১৫ হাজার ৪৪৩টি ছোট কার্টনে মোট ৩১ লাখ শলাকা আমদানি-নিয়ন্ত্রিত বিদেশি সিগারেট। আটক হওয়া এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পানগাঁও কাস্টমস হাউসের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালায়। আমদানিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও থানাধীন আরাকান সড়কস্থ ‘মৈত্রী অটোমোবাইল’ এবং খালাস কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘মিতুল ট্রেড লিমিটেড’।

তল্লাশিকালে দেখা যায়, বস্তা ও কার্টনের ভেতরে পুরনো মোটর পার্টস এমনভাবে সাজানো ছিল যাতে নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ সিগারেট সহজে ধরা না পড়ে। তবে কাস্টমসের সূক্ষ্ম নজরদারি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশিতে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে পুরো চিত্র।

এই চালানের পেছনে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সবাইকে জড়িয়ে শিগগিরই কাস্টমস আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বর্তমানে জব্দ সিগারেটগুলো কাস্টমসের হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে পড়ুন: মোটর পার্টস আমদানির আড়ালে আমদানিকারকের যত জালিয়াতি…

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ