২৫ অক্টোবর ২০২৬

নবগঠিত কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল যুগে জিয়া শিশু কিশোর মেলা, আসছে স্মার্ট ওয়েবসাইট

জিয়া শিশু কিশোর মেলার নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সাংগঠনিক ও পরিচিত সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাষানী ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম হোসেন টমাস, সহ-সভাপতি হাজী আকতার হোসেন, সহ-সভাপতি শেখ মহসীন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিন মোহাম্মদ দুলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ মাসুম, বিশেষ সম্পাদক বিপুল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিন্টু আলম ও মোহাম্মদ কাউসার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, দপ্তর সম্পাদক মো. চঞ্চল মোরশেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব সবুজ, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান শফিক, সহ-গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লবসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার দেশের চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বন্যায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতেন। তাঁর উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি’, জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিশু একাডেমিসহ শিশুদের বিকাশে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই আদর্শ থেকেই বিএনপিতে শিশু সংগঠন গঠনের চিন্তার সূত্রপাত হয়।

জাহাঙ্গীর শিকদার আরও বলেন, ১/১১-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগের শিশু সংগঠন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে গড়ে তুলতে ২০১২ সালে নতুন চিন্তাধারা থেকে জিয়া শিশু কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, “শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য নয়, বরং সারাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই আমাদের এই সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে।”

সভায় সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আমিন বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, এটি শুধু একটি ওয়েবসাইট হবে না; বরং সংগঠনের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ সদস্য ও শিশুদের সদস্যপদ প্রদান, বিভিন্ন কমিটির পারস্পরিক যোগাযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-নিবেদন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই ওয়েবসাইটটির কাজ শেষ হবে। এরপর নির্বাহী, জেলা ও থানা কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ ইউজার লগইনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সংগঠনের কার্যক্রম, প্রকাশনা ও বিভিন্ন তথ্য সহজেই জানা যাবে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আশরাফুল আমিন বলেন, তিনি কোনো নেতার ব্যক্তিগত প্রভাবে নয়, বরং নিজের আদর্শিক বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

সভায় সহ-সভাপতি শেখ মহসীন বলেন, “একটি সংগঠনের শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক কাঠামোতে নয়, বরং তার আদর্শ ও কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় নিহিত থাকে। জিয়া শিশু কিশোর মেলা আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে কাজ করবে। প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করে একটি দক্ষ, আধুনিক ও সেবামুখী সংগঠন হিসেবে জিয়া শিশু কিশোর মেলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

সভায় বক্তারা সারাদেশে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নতুন সদস্য সংগ্রহ, শিশু-কিশোরদের জন্য সৃজনশীল, সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নবগঠিত কমিটির সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন