বাংলাধারা প্রতিবেদন »
নগরীর মোগলটুলী এলাকার রাবার ওয়ার্কশপে কাজ করে কয়েক জন শ্রমিক। ওয়ার্কশপের সঙ্গে লাগানো তাদের বাসা। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় রান্নার জন্য গ্যাসের সংযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘরে অবস্থান করা তিনজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন- সদরঘাট থানাধীন কমার্স কলেজ রোডের কাটা বট গাছ এলাকার মৃত আমির হোসেন ভুইয়ার ছেলে শাহাদাত ভূঁইয়া (৫৫), চৌমুহনীর মতিয়ার পুল এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মিজান (৩৮) এবং কাটা বটগাছ এলাকার জমির উদ্দিন লেনের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মাওলা (৫০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডি রাবার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতেন এই তিন শ্রমিক। ওয়ার্কশপের সঙ্গে লাগানো ঘরে বসবাস করতেন তারা। সকালে রান্নার জন্য গ্যাসের সংযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে ঘটে বিস্ফোরণের ঘটনা। এরপর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের চমেকে নিয়ে আসা হয়।
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক জানান ডা. মোহাম্মদ খালেদ জানান, আহত তিন জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শ্বাসনালীসহ শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। গোলাম মওলার ৬৫ শতাংশ ও মিজানের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া আরেক জনের মুখমণ্ডলসহ শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানান বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক।
তবে চমেকের বার্ন ইউনিটে কোনো আইসিইউ না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, দিন দিন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ছে। এক একটি সিলিন্ডার পরিণত হয়েছে বোমায়। প্রতিদিনই বিস্ফোরণের ঘটনায় রোগী ভর্তি হচ্ছে বার্ন ইউনিটে। এখনই যদি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিরাপদ করা না যায় তাহলে সামনের দিনগুলোতো আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বার বার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরও সরকারের পক্ষ থেকে বিস্ফোরণ রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষজন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম













