দীর্ঘ ৩০ বছরের অবহেলা ও ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের একমাত্র কারণ হয়ে থাকা প্রায় ৩০০ ফুট কাঁচা সড়কটি প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সুমনের নিজস্ব অর্থায়নে ইট সলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ হাজারো এলাকাবাসীর চলাচল সহজ হয়েছে।
রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী সাহেব মিয়া বাড়ি এলাকার সড়কটির সংস্কারকাজ গত শুক্রবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়। পরে দিনব্যাপী কাজ শেষে সড়কটির ইট সলিং সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ তিন দশক ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে পথটি ব্যবহার করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
অর্ধশতাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র এই সড়ক দিয়ে পাশের দক্ষিণের বিল থেকে উৎপাদিত ধান, সরিষা, সূর্যমুখী, ভুট্টা এবং বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি বাড়ি ও বাজারে আনা-নেওয়ার সময় কৃষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সুমন নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসহাক মিয়া বলেন, ‘অনেক জনপ্রতিনিধি এলেন-গেলেন, কিন্তু ৩০ বছরেও এই সড়কে একটি ইটও পড়েনি। বর্ষায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ ছিল। অবশেষে আমাদের এলাকার সন্তান সুমন নিজের অর্থে সড়কটি সংস্কার করায় আমরা খুবই আনন্দিত।’
সড়কটি সংস্কারের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও কৃষকদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা এই উদ্যোগের জন্য প্রবাসী মোহাম্মদ আলী সুমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। মানুষের দুর্ভোগ দেখে নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজ করেছি।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সড়কটি আরও উন্নত করে স্থায়ী অবকাঠামোর আওতায় আনা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়।














