শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত»
যুদ্ধের দামামা বেজেছে পশ্চিমাদের আধ্যিপত্যে নিয়ে আর প্রাণ ঝরেছে এই বাংলার সন্তান হাদিসুর রহমান আরিফের।কিছু দিন পর ছেলে বাড়ি ফিরবে,বিয়ের পিড়িঁতে বসবে,মেহেদী আলপনায় দুই হাত রাঙাবে,মা তার বুক ভরা আশা নিয়ে চেয়ে আছে।
হাদিসুর রহমান ঠিকই বাড়ি ফিরবে তবে তক্তার এক কফিনে সাদা কাপন গায়ে জড়িয়ে। নিস্তব্দ হয়ে থাকবে,দু চোখ বন্ধ করে।হাদিসুর রহমান ছিলেন নাবিক আর এখন জ্বলে পুড়ে লাশ।সামান্য ব্যবধানে মানুষ থেকে কফিনের যাত্রী।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বলি হলেন বাংলাদেশের নাবিক হাদিসুর রহমান আরিফ।তিনি বাংলাদেশি জাহাজ ’এমভি বাংলার সমৃদ্ধি তে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।গত ২ মার্চ বুধবার ইউক্রেনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টায় রাশিয়ার রকেট হামলায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।ওই জাহাজটিতে আরো ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত ছিলেন।গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায় বাংলারা সমৃদ্ধ জাহাজটি।সেখানে থেকে সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিলো জাহাজটির।
সবশেষ ৬ মাস আগে বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন নিহত নাবিক হাদিসুর রহমান।আর কখনোই হাসিমুখে বাড়ি ফিরে আসা হবে না তার।বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কতমতলা এলাকার সন্তান তিনি।ছেলের মৃত্যুর খবর আসার সাথে সাথে আরিফের বাবা অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষক মো.আব্দুর রাজ্জাকের নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু পিতার কাধেঁ পুত্রের লাশ।মা আমেনা বেগমের বিলাপে ভারী হয়ে ওঠেছে আকাশ বাতাস।৪ ভাই বোনের মধ্যে পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান।ভাইকে হারিয়ে শোকের পাহাড় ভর করেছে বাকি ভাইবোনদের বুকে।কখনো হাউমাউ করে কাঁদছেন,কখনো নিরবে বির্সজন দিচ্ছেন দু চোখের অশ্রু।
বুধবার রকেট হামলার আগে পরিবারের সাথে যোগাযোগ হয়েছিলো হাদিসুর রহমানের।কথা বলেছিলেন ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্সের সাথে।সে কথাই ইহকালের সবশেষ কথা ছিলো তার। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী থেকে পড়াশোনা করেন হাদিসুর রহমান।পড়াশোনা শেষ করে ২০১৮ সালে ’এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে যুক্ত হন তিনি।আর সেই জাহাজে কর্মরত থেকেই রাশিয়া আগ্রাসনের বলি হলেন নাবিক হাদিসুর রহমান আরিফ।














