চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত ৪৫ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে আক্রান্তদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন থেকেই ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, বালতি, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আদিব ইসমাইল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জ্বরসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।














