১ নভেম্বর ২০২৬

মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত শুরু

এই বয়সেও নতুন ইতিহাস লিখলেন তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক উপহার দিয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও গোলের তালিকায় পৌঁছে গেলেন চূড়ায়। অধিনায়কের অবিস্মরণীয় দিনটিতে বড় জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। ৬০তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলকিপার লুকা জিদানের উপহার লুফে নিয়ে তিনি ব্যবধান বাড়ান। ৭৬তম মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

এ দিন মাঠে নেমেই ইতিহাসে নাম লেখা হয়ে যায় তার। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনিই। আর্জেন্টিনার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছুঁয়ে ফেলেন ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও। পরে উপলক্ষটি রাঙান তিনি ঐন্দ্রজালিক পারফরম্যান্সে।

১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় স্পর্শ করলেন তিনি সাবেক জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। ২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার হয়েছিলেন তিনি ১৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে গোল করে। ঠিক ২০ বছর পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলস্কোরারও তিনি।

ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটেই ছিল দারুণ নাটকীয়তা। লড়াইটা তখন ছিল সমানে সমান। চতুর্থ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের দুর্বল হেড সহজেই ধরে নেন আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান।

পরের মিনিটেই মার্তিনেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে জিদারে পাশ দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান মেসি। ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে ওঠেন মেসির নামে। কিন্তু তার কণ্ঠ মিইয়ে আসে রেফারির বাঁশি শুনে, “স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত আর্জেন্টিনার…।” হতে পারত, কিন্তু হয়নি। কারণ, মেসি ছিলেন অফসাইড।

দুই মিনিট পর সেই অভিজ্ঞতা হয় আলজেরিয়ার। বক্সের একটু বাইরে থেকে আর্জেন্টিনার তিনজনের মধ্য থেকে চোখধাঁধানো পাস বাড়ান ফারিদ এল মেলালি শেইবি। সেই বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এহমেদ কেন্দুসি মাজা। কিন্তু তাদের আলজেরিয়ানদের উল্লাসের পর ভিএআর রেফারি জানান অফসাইডের সিদ্ধান্ত। মাজার বাড়িয়ে ধরা বাঁ হাতটুকু ছিল শুধু অফসাইড!

ম্যাচের প্রথম বৈধ গোলের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তদশ মিনিটেই মেসির জাদুর ঝলক। রদ্রিগো দে পল মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ান মেসির দিকে। বল দিয়ে দ্রুত একটু এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের গোলা ছোড়েন তিনি। গোলকিপার জিদানের কিছু করার ছিল না। উড়ন্ত ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি তিনি।

২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক আসর ছিল জিনেদিন জিদানের শেষ বিশ্বকাপ। ২০ বছর পর সেই মেসি নিজের শেষ বিশ্বকাপে গোল করলেন জিদানের ছেলের বিপক্ষে।

আরও পড়ুন