২১ অক্টোবর ২০২৬

রেকর্ড ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আইন ভাঙা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অপরাধ, জালিয়াতি ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আগের যে কোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে রেকর্ড তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আল জাজিরাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দেশের সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বেশির ভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে অপরাধ, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর ভিসা পাওয়ার যোগ্য নন, এমন তথ্য পাওয়ার পরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ধরনের ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, বার্থ ট্যুরিজমে জড়িত থাকা বা এ কাজে সহায়তা করার অভিযোগে চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে হামলা ও এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছিল। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে বাতিল হয়েছে ২২ শতাংশ ভিসা। চুরির ঘটনায় ৭ শতাংশ এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা বিতরণের কারণে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করে আইন ভাঙা, জালিয়াতি করা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সে সময়ও বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা আলোচনায় আসে।

এর আগে জানুয়ারিতেও এক লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছিল দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। তখন ওই সংখ্যাকে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে, ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে, ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশিও বাড়ানো হয়েছে।

তবে, প্রশাসনের এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর ফলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

একই সঙ্গে, এ ধরনের নজরদারির কারণে অভিবাসীরা আরও বেশি পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়তে পারেন। তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা।

আরও পড়ুন