‘অবৈধ নির্মাণে আর কোনো ছাড় নয়’— নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের কঠোর অবস্থানের ঘোষণার পর এবার নগরীর নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। প্রথম দফার অভিযানে নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় ৮টি স্থাপনা সিলগালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকায় চউকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করে দেখা যায়, একাধিক ভবনে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক (প্লটের সীমানা থেকে নির্ধারিত খালি স্থান) সংরক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি ও অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগে মোট ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত সাতটি বহুতল ভবন এবং একটি অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে সিলগালা করা স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া তিনজন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে কেউ যেন নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ না করেন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী সেই স্থাপনা অপসারণে চউক বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের অথরাইজড অফিসার-২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদ এবং সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকরা।














