২ মে ২০২৬

মিরসরাইয়ে বিজয়মেলার শেষ রাতে সন্ত্রাসী টিটুর ত্রাস—গুলিবিদ্ধ ৬, আহত ২০

মিরসরাই প্রতিনিধি »

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী মিজয়মেলা শেষে শেষরাতে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর অতির্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসী মাঈন উদ্দিন টিটু ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ৬ জন গুলিবিদ্ধ এবং আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, মূলত নিজের আধিপত্যের জানান দিতেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও বিদেশী পিস্তল নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে মাঈন উদ্দিন টিটু।

রবিবার (১ জানুয়ারি) শেষরাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিজয়মেলা সমাপ্ত করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ টিটু তার অর্ধশতাধিক অনুসারীকে নিয়ে অতির্কিত হামলা চালায়। তারা গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও রকেট লেন্সার ছোড়ে। এছাড়া, ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাউছার আহমেদ আরিফ, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন ইমন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেত ইমতিয়াজ, আব্দুর রহমানসহ আরও দুই যুবলীগ কর্মী। এছাড়া পিটিয়ে জখম করে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাহেদ বিন কামাল অনিকের। বর্তমানে তারা সবাই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধী রয়েছে। এর মধ্যে কাউছার আহমেদ আরিফ ও সাহেদ বিন কামাল অনিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। এ ঘটনায় অন্তত আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর জোরারগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিজয়মেলা উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী রেজাউল করিম মাস্টার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলায় আগত ক্লিন ইমেজের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ কারা করেছে সেটি সবাই দেখেছে এবং সবাই জানে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কিংবা মানুষ হত্যা করে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বায় জানান।

জোরারগঞ্জ বিজয়মেলা উদযাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বাবু শ্যামল দেওয়ানজী বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা প্রত্যেকেই সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী ছাড়া এই ধরণের ঘটনা ঘটানো সম্ভব না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাঈন উদ্দিন টিটুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে আমাদের ফোর্স সেখানে ছুটে যায়। অনেকেই আহত হয়েছেন শুনেছি। অভিযোগ পেলে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন