২ মে ২০২৬

দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি

বাংলাধারা ডেস্ক »

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুজন আলী (২০) নামে এক যুবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৪ জলাই) দুপুরের পর সে ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। সুজন আলী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের কালমেঘ, কাজি বস্তি গ্রামের ইসলাম উদ্দীনের ছেলে। ধর্ষণের পর ওই স্কুলছাত্রীকে বেধড়ক মারপিট ও নির্যাতন করে অজ্ঞান অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর বাড়ির সামনে ফেলে দেয় তারা।

এ ঘটনা কাউকে বললে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে মেরে ফেলার ভয়ভীতিও দেখিয়েছে সুজন। এ ঘটনায় সুজন আলীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে তার মা জরিমন বেগম (৪৭) ও বোন ইয়াসমিন আক্তারকে শুক্রবার দুপুরে আটক করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, গত ৩ মাস ধরে তার নাবালিকা মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল সুজন আলী। বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মেয়ে কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলো। ফেরার সময় তাকে রাস্তা থেকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায় সুজন আলী ও তার সহযোগীরা।

সুজনের বাড়িতে ধর্ষণের সময় চিৎকার করলে তাকে বেধরক মারপিট করে। এরপর অজ্ঞান হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির গেটের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে শুক্রবার দুপুরে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসাপাতালে রেফার্ড করে চিকিৎসকরা। বর্তমানে তার মেয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসাপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানান তিনি।

সুজন আলী ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্কুলছাত্রীর মা জানান, মেয়েকে ধর্ষণের পর বাড়িতে ফেলে দিয়ে গেছে পাষণ্ডরা। আবার শাসিয়ে গেছে বিষয়টি নিয়ে যেন বাড়াবাড়ি না করা হয়। নির্যাতিতার ভাই আক্ষেপ করে বলেন, কোথায় বাস করছি আমরা, দেশে কি আইন বলতে কিছু আছে?

কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুলাহী আল বাকি জানান, এমন একটি ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য মেয়েরা খুবই আতঙ্কে রয়েছে। তাই দ্রুত বখাটেদের গ্রেপ্তার করে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

দুওসুও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর পূর্বেও বখাটে সুজনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে বিষয়ে তার পরিবারকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের শাসনের অভাবে সুজন দিন দিন লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন যাতে এলাকায় আর কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে।

এদিকে এ ঘটনায় বখাটে সুজন ও তার সহযোগীরা এখনো ধরা না পড়ায় এলাকায় জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী ও কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদ হোসেন জানান, স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় সুজন আলী, তার বাবা ইসলাম উদ্দীন, মা জরিমন বেগম, বোন ইয়াসমিন আক্তার এবং সহযোগী প্রতিবেশি ফরহাদ হোসেনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা। ধর্ষকের মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষক সুজন ও বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে ।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আর

আরও পড়ুন