সীতাকুন্ড প্রতিনিধি »
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিপন্ন প্রজাতির একটি ‘ইরাবতি ডলফিন’ মেরে গাছে ঝুলিয়ে কবিরাজি ওষুধের তেল সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে এক কবিরাজ ও স্থানীয় জেলেদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগর উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ জীববৈচিত্র আইন, ২০১৭’ এর ৪১ ও ৪২ ধারা মোতাবেক নিয়মিত মামলা করার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিয়াখালী সাগর উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের পেতে রাখা জালে বড় একটি ডলফিন মাছ ভেসে আসে। কয়েক মন ওজনের এই মাছটি পেয়ে জেলেরা এটি সাগর তীরে নিয়ে এসে দড়ি দিয়ে একটি গাছের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখেন। এতে মাছটি মরে যায়। পরে এক কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা এ মাছ থেকে তেল তৈরির উদ্দেশ্যে জেলেদের সাথে দরদাম করে মাছটি কিনে ভাটেরখীল এলাকার দিকে নিয়ে যায়। জীবন্ত দুর্লভ প্রজাতির মাছটিকে হত্যা করায় হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে ডলফিন হত্যার খবর পেয়ে শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকায় যান। সেখানে ক্রেতার সন্ধানে গিয়ে পঁচা-গলা মাছটি পেলেও কবিরাজ পালিয়ে যান।
ইউএনও বলেন, ‘প্রথমে শুষুক মাছ বলে শোনা গেলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ইরাবতি প্রজাতির ডলফিন মাছ। এর ওজন অন্তত ৫ মণ। একজন কবিরাজ জেলেদের কাছ থেকে এটিকে তেল তৈরির জন্য কিনে নিয়েছিলো। আমি খোঁজ নিয়ে পঁচা অবস্থায় মাছটি জব্ধ করেছি। তবে তেল তৈরির উদ্দেশ্যে যে ক্রেতা মাছটি কিনেছিলেন তিনি পালিয়ে গেছেন। পরে মাছটি মাটিতে পুঁতে ফেলতে ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছি।’
মিল্টন রায় আরও বলেন, ডলফিন বা তিমি হত্যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












