চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বসতভিটা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে কেরোসিন ঢেলে নিজ ঘরসহ চারটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে মহিউদ্দীন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়নের ভরাচর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হাকিম চৌকিদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন শামসুর ইসলাম, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল আলিম ও মো. রহিম। তাদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দীন প্রথমে নিজের বসতঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরান। পরে তিনি তার চাচার বসতঘরেও আগুন লাগান। মুহূর্তেই আগুন পার্শ্ববর্তী আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মোট চারটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল্লাহ ধরা জানান, একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মধ্যে একটি ছিল সেমিপাকা এবং তিনটি ছিল মাটির ঘর। উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দীনকে আটক করেছে। তিনি পেশায় একজন তরকারি ব্যবসায়ী।
অভিযুক্তের চাচাতো ভাই মো. জয়নাল আবেদিন জানান, “আমার চাচাতো ভাই দোকান থেকে কেরোসিন এনে প্রথমে নিজের ঘরে এবং পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই আগুনে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
ঘটনাটি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”













