(১৯৩২–২০০৬), ২৭ রমজান এমন এক পবিত্রতম রাত, যে রাত হাজার রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই রাতেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং এই রাতেই প্রত্যেক হেকমতপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। মাইজভান্ডার পরিমণ্ডলে এই রাত আরও তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে; কেননা এই পবিত্র রাতেই মাইজভান্ডার দরবারের এক দিকপাল আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (রহ.) খোদার জাতে মিশে দীদারে ইলাহী লাভ করেন।
এই মহান ব্যক্তি পিতার দিক থেকে ছিলেন গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর একমাত্র পৌত্র এবং অছি-এ-গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (রহ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র। মাতার দিক থেকে তিনি ছিলেন খলিফায়ে গাউছুল আজম, কুতুবুল আকতাব ইউসুফেসানি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (ক.)-এর দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা সাজেদা খাতুন-এর গর্ভজাত সন্তান। দুই নূরের বিচ্ছুরিত শক্তিতে জন্ম লাভ করে সৌভাগ্যের উত্তরাধিকারী হলেও অহমিকা, আভিজাত্য ও বংশগৌরব তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
“মোন্তাজেম” শব্দটির আভিধানিক অর্থ যার ওপর সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আর “আমির” অর্থ নেতা বা নেতৃত্বদানকারী। অছি-এ-গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (রহ.) ১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম তাঁর দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (রহ.)-কে দরবার শরীফের সকল জিম্মাদারি ও দায়িত্বভার অর্পণ করে “আমিরে মোন্তাজেম” লকব দান করেন।
তিনি স্বমহিমায়, সদাচরণে, বিনয়ে, পরোপকারিতা ও সহমর্মিতায় সকলের ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্বে উন্নীত হন। তাঁর পবিত্র কালাম ছিল “ব্যক্তি নয়, নীতিই শক্ত ভিত্তি।” অর্থাৎ মানুষ কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছে বা কার সন্তান তা বড় নয়; বড় তার সুমহান কীর্তি। তাঁর জীবনের প্রতিটি স্তরে নীতি-নৈতিকতা ও চরিত্রের অনুপম মাধুর্য ফুটে উঠেছিল।
মাইজভান্ডার পরিমণ্ডলে সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর সামাজিক কর্মকাণ্ড, সুন্দর ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীলতা এবং দরবারের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান তাঁকে ইতিহাসের দর্পণে এক অতুলনীয় কিংবদন্তি মহাপুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমিরে মোন্তাজেম মানে সপ্তনীতির পূর্ণ প্রতিচ্ছবি আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারীর হওয়ার অনুপ্রেরণা দানকারী ও আদর্শের অনন্য প্রতীক।
নীতি ও নৈতিকতাই তাঁর ভাব ও দর্শনে, চলনে ও কথনে প্রতিফলিত হয়েছে। মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী ছিলেন তাঁর পিতার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। যারা অছি-এ-গাউছুল আজমকে দেখেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই আমিরে মোন্তাজেমের মধ্যে অছি-এ-গাউছুল আজমের খুশবু অনুভব করেছেন। পিতার পর দরবারের সকল কাজ তিনি এমনভাবে সম্পাদন করতেন যেন পিতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশেই কাজগুলো করছেন।
তিনি ছিলেন খেলাফতে রব্বানী বা উলুহিয়তের প্রতীক খোদায়ী প্রতিনিধি। একজন খোদায়ী প্রতিনিধির জীবনদর্শন শুরু হয় আদব ও ইখলাসের মাধ্যমে এবং শেষ হয় দীদারে ইলাহীর মাধ্যমে আত্মদর্শনে।
আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী ১৯৫৫ সালে তাঁর পিতার নির্দেশে চট্টগ্রাম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি অধ্যয়নকালে লেখাপড়ার ইতি টেনে জাগতিক সব আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে মাইজভান্ডার শরাফতের বিশাল জাহাজে পিতার সহযোগী কান্ডারী হিসেবে পদার্পণ করেন।
অছি-এ-গাউছুল আজমের আশেক এবং মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর একনিষ্ঠ সহযোগী ও কার্যসম্পাদক জনাব হারুন অর রশিদ ভান্ডারীর ভাষায় “দরবারের কাজকারবারে কে লইবে এই জিম্মাদার, মহান পিতার আদেশক্রমে করিলেন কবুল। হযরতের প্রেমরাজ্যে মওলা মুনির আছেন চার্জে, কাজকর্ম রীতিনীতি প্রেম বিতরণের মারফতে।”
১৯৫৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর তিনি উদারতা ও সাহসিকতার সাথে সামাজিক, সাংগঠনিক ও আধ্যাত্মিক সকল দায়িত্ব সুশৃঙ্খলভাবে পালন করেছেন। কোন প্রকার জাগতিক লোভ-লালসা, ভোগ-বিলাস বা কামনা-বাসনা তাঁর মনকে বিচলিত করতে পারেনি।
সপ্তকর্ম ও গাউছিয়ত নীতিকে তিনি যেমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছেন, তেমনি ভক্ত-জায়েরিন ও তাঁর আওলাদদেরও নীতির বিরুদ্ধে না যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
একদিন এক ব্যক্তি পাঁচ লক্ষ টাকার বান্ডিল এনে আমিরে মোন্তাজেমের হাতে অর্পণ করে বললেন এগুলো যাকাতের টাকা, দরবারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার জন্য এনেছি। আমিরে মোন্তাজেম তাৎক্ষণিকভাবে সেই টাকা ফেরত দিয়ে বললেন “গাউছুল আজমের দয়ায় যেখানে সারা বিশ্ব চলে, সেখানে যাকাতের টাকায় দরবারের কাজ হবে না। আপনার প্রতিবেশীর আপনার ওপর হক আছে। আপনি এই টাকা দিয়ে আপনার এলাকায় সাহায্য করুন এটাই উত্তম।”
মাইজভান্ডার দরবারে কেউ শাদী মোবারক বা আকদ সম্পাদনের অনুমতি নিতে এলে তিনি বলতেন “আপনার নিকটবর্তী মসজিদের ইমামের হক আগে। এই কাজে তাঁর হক আদায় করা জরুরি।” এইভাবে বিনয়, আদব ও ইখলাস ছিল তাঁর চরিত্রের মূল ভিত্তি।
তাঁর হৃদ্যতা, সুমিষ্ট বচন ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি মাইজভান্ডারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি করে। তিনি নিজে যেমন জ্ঞানসাধনায় নিমগ্ন ছিলেন, তেমনি মাইজভান্ডার শরাফত নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিদ্যাপীঠে গবেষণার দ্বারও উন্মুক্ত করে দেন।
সহোদর শাহসূফী সৈয়দ শহীদুল হক মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)-কে সাথে নিয়ে তিনি পিতা অছি-এ-গাউছুল আজমের স্বপ্ন পূরণে “মাসিক জীবনবাতি” পত্রিকাকে একটি নিয়মিত ও আকর্ষণীয় সাময়িকী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
মহাসাগরসম মাইজভান্ডার ত্রাণভান্ডার থেকে তিনি মণি-মুক্তা জহরত দুই হাতে বিলিয়েছেন। যার জাগতিক প্রয়োজন তাকে জাগতিক, আর যার আধ্যাত্মিক প্রয়োজন তাকে আধ্যাত্মিক দান করেছেন।
অবশেষে ২০০৬ সালে লাইলাতুল কদরের পবিত্র রাতে, জুমাতুল বিদার মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মহাযাত্রা সম্পন্ন করেন। তাঁর এই বিদায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল ইখলাসে, আর শেষ হয়েছিল দীদারে ইলাহীতে।
পরিশেষে বলা যায়, আমিরে মোন্তাজেমের শিক্ষা একটাই নীতিকে আঁকড়ে ধরতে না পারলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
মহামুনিব মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর উছিলায় মহান আল্লাহ আমাদের জীবনকে নীতি ও নৈতিকতায় পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন।
—
লেখক :
জেসমিন আকতার
সহকারী শিক্ষক
ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসা
স্মরণের আবরণে
আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (রহ.)
(১৯৩২–২০০৬), ২৭ রমজান এমন এক পবিত্রতম রাত, যে রাত হাজার রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই রাতেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং এই রাতেই প্রত্যেক হেকমতপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। মাইজভান্ডার পরিমণ্ডলে এই রাত আরও তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে; কেননা এই পবিত্র রাতেই মাইজভান্ডার দরবারের এক দিকপাল আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (রহ.) খোদার জাতে মিশে দীদারে ইলাহী লাভ করেন।
এই মহান ব্যক্তি পিতার দিক থেকে ছিলেন গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর একমাত্র পৌত্র এবং অছি-এ-গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (রহ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র। মাতার দিক থেকে তিনি ছিলেন খলিফায়ে গাউছুল আজম, কুতুবুল আকতাব ইউসুফেসানি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (ক.)-এর দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা সাজেদা খাতুন-এর গর্ভজাত সন্তান। দুই নূরের বিচ্ছুরিত শক্তিতে জন্ম লাভ করে সৌভাগ্যের উত্তরাধিকারী হলেও অহমিকা, আভিজাত্য ও বংশগৌরব তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
“মোন্তাজেম” শব্দটির আভিধানিক অর্থ যার ওপর সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আর “আমির” অর্থ নেতা বা নেতৃত্বদানকারী। অছি-এ-গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (রহ.) ১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম তাঁর দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (রহ.)-কে দরবার শরীফের সকল জিম্মাদারি ও দায়িত্বভার অর্পণ করে “আমিরে মোন্তাজেম” লকব দান করেন।
তিনি স্বমহিমায়, সদাচরণে, বিনয়ে, পরোপকারিতা ও সহমর্মিতায় সকলের ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্বে উন্নীত হন। তাঁর পবিত্র কালাম ছিল “ব্যক্তি নয়, নীতিই শক্ত ভিত্তি।” অর্থাৎ মানুষ কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছে বা কার সন্তান তা বড় নয়; বড় তার সুমহান কীর্তি। তাঁর জীবনের প্রতিটি স্তরে নীতি-নৈতিকতা ও চরিত্রের অনুপম মাধুর্য ফুটে উঠেছিল।
মাইজভান্ডার পরিমণ্ডলে সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর সামাজিক কর্মকাণ্ড, সুন্দর ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীলতা এবং দরবারের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান তাঁকে ইতিহাসের দর্পণে এক অতুলনীয় কিংবদন্তি মহাপুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমিরে মোন্তাজেম মানে সপ্তনীতির পূর্ণ প্রতিচ্ছবি আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারীর হওয়ার অনুপ্রেরণা দানকারী ও আদর্শের অনন্য প্রতীক।
নীতি ও নৈতিকতাই তাঁর ভাব ও দর্শনে, চলনে ও কথনে প্রতিফলিত হয়েছে। মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী ছিলেন তাঁর পিতার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। যারা অছি-এ-গাউছুল আজমকে দেখেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই আমিরে মোন্তাজেমের মধ্যে অছি-এ-গাউছুল আজমের খুশবু অনুভব করেছেন। পিতার পর দরবারের সকল কাজ তিনি এমনভাবে সম্পাদন করতেন যেন পিতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশেই কাজগুলো করছেন।
তিনি ছিলেন খেলাফতে রব্বানী বা উলুহিয়তের প্রতীক খোদায়ী প্রতিনিধি। একজন খোদায়ী প্রতিনিধির জীবনদর্শন শুরু হয় আদব ও ইখলাসের মাধ্যমে এবং শেষ হয় দীদারে ইলাহীর মাধ্যমে আত্মদর্শনে।
আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী ১৯৫৫ সালে তাঁর পিতার নির্দেশে চট্টগ্রাম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি অধ্যয়নকালে লেখাপড়ার ইতি টেনে জাগতিক সব আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে মাইজভান্ডার শরাফতের বিশাল জাহাজে পিতার সহযোগী কান্ডারী হিসেবে পদার্পণ করেন।
অছি-এ-গাউছুল আজমের আশেক এবং মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর একনিষ্ঠ সহযোগী ও কার্যসম্পাদক জনাব হারুন অর রশিদ ভান্ডারীর ভাষায় “দরবারের কাজকারবারে কে লইবে এই জিম্মাদার, মহান পিতার আদেশক্রমে করিলেন কবুল। হযরতের প্রেমরাজ্যে মওলা মুনির আছেন চার্জে, কাজকর্ম রীতিনীতি প্রেম বিতরণের মারফতে।”
১৯৫৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর তিনি উদারতা ও সাহসিকতার সাথে সামাজিক, সাংগঠনিক ও আধ্যাত্মিক সকল দায়িত্ব সুশৃঙ্খলভাবে পালন করেছেন। কোন প্রকার জাগতিক লোভ-লালসা, ভোগ-বিলাস বা কামনা-বাসনা তাঁর মনকে বিচলিত করতে পারেনি।
সপ্তকর্ম ও গাউছিয়ত নীতিকে তিনি যেমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছেন, তেমনি ভক্ত-জায়েরিন ও তাঁর আওলাদদেরও নীতির বিরুদ্ধে না যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
একদিন এক ব্যক্তি পাঁচ লক্ষ টাকার বান্ডিল এনে আমিরে মোন্তাজেমের হাতে অর্পণ করে বললেন এগুলো যাকাতের টাকা, দরবারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার জন্য এনেছি। আমিরে মোন্তাজেম তাৎক্ষণিকভাবে সেই টাকা ফেরত দিয়ে বললেন “গাউছুল আজমের দয়ায় যেখানে সারা বিশ্ব চলে, সেখানে যাকাতের টাকায় দরবারের কাজ হবে না। আপনার প্রতিবেশীর আপনার ওপর হক আছে। আপনি এই টাকা দিয়ে আপনার এলাকায় সাহায্য করুন এটাই উত্তম।”
মাইজভান্ডার দরবারে কেউ শাদী মোবারক বা আকদ সম্পাদনের অনুমতি নিতে এলে তিনি বলতেন “আপনার নিকটবর্তী মসজিদের ইমামের হক আগে। এই কাজে তাঁর হক আদায় করা জরুরি।” এইভাবে বিনয়, আদব ও ইখলাস ছিল তাঁর চরিত্রের মূল ভিত্তি।
তাঁর হৃদ্যতা, সুমিষ্ট বচন ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি মাইজভান্ডারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি করে। তিনি নিজে যেমন জ্ঞানসাধনায় নিমগ্ন ছিলেন, তেমনি মাইজভান্ডার শরাফত নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিদ্যাপীঠে গবেষণার দ্বারও উন্মুক্ত করে দেন।
সহোদর শাহসূফী সৈয়দ শহীদুল হক মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)-কে সাথে নিয়ে তিনি পিতা অছি-এ-গাউছুল আজমের স্বপ্ন পূরণে “মাসিক জীবনবাতি” পত্রিকাকে একটি নিয়মিত ও আকর্ষণীয় সাময়িকী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
মহাসাগরসম মাইজভান্ডার ত্রাণভান্ডার থেকে তিনি মণি-মুক্তা জহরত দুই হাতে বিলিয়েছেন। যার জাগতিক প্রয়োজন তাকে জাগতিক, আর যার আধ্যাত্মিক প্রয়োজন তাকে আধ্যাত্মিক দান করেছেন।
অবশেষে ২০০৬ সালে লাইলাতুল কদরের পবিত্র রাতে, জুমাতুল বিদার মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মহাযাত্রা সম্পন্ন করেন। তাঁর এই বিদায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল ইখলাসে, আর শেষ হয়েছিল দীদারে ইলাহীতে।
পরিশেষে বলা যায়, আমিরে মোন্তাজেমের শিক্ষা একটাই নীতিকে আঁকড়ে ধরতে না পারলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
মহামুনিব মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর উছিলায় মহান আল্লাহ আমাদের জীবনকে নীতি ও নৈতিকতায় পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন।
—
লেখক :
জেসমিন আকতার
সহকারী শিক্ষক
ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসা
আরও পড়ুন
সর্বকালের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল
আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল
ব্যাংক এশিয়ার চট্টগ্রাম জোনাল হেড হলেন কায়েস চৌধুরী
এ সম্পর্কিত আরও
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রামে
মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় পটিয়ার প্রবাসী নিহত
সন্দ্বীপে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত
চট্টগ্রাম বন্দরে ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু
সর্বশেষ
স্মরণের আবরণে
সর্বকালের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল
আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল
ব্যাংক এশিয়ার চট্টগ্রাম জোনাল হেড হলেন কায়েস চৌধুরী