চট্টগ্রাম নগরীর এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলি রোড শাখা থেকে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাতের মামলায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় অপর আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন সীতাকুণ্ড থানার ছলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ ও দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকারম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আসামিকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এলসির বিপরীতে আনা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।












