২৭ এপ্রিল ২০২৬

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় “জীবিকার দুশ্চিন্তায় আনোয়ারা উপকূলের মৎস্যজীবীরা”

বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের প্রজনন ও নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে গত ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকেই মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এর ফলে আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী আবারও কর্মহীন হয়ে জীবিকার চিন্তায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকের চোখেমুখে এখন থেকেই ফুটে উঠেছে অভাব-অনটনের দুশ্চিন্তা।

নিষেধাজ্ঞার পর থেকে গভীর সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে অবস্থান করছে। বিশেষ করে আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া ঈদগাহ ঘাট, ছত্তার মাঝির ঘাট, গলাকাটা ঘাট, খোর্দ্দ গহিরা ছিপাতলী ঘাট, ছমদ মেম্বার ঘাট, গহিরা উঠান মাঝির ঘাট, বাইঘ্যেরো ঘাট, উত্তর সরেঙ্গা ঘাট, বাইন্ন্যের দিঘির ঘাট, ফকিরহাট ঘাট এবং ধলঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ট্রলারগুলো নোঙর করতে দেখা যায়।

স্থানীয় জেলে-মৎস্যজীবীরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর থেকে আপাতত মাছের জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম গোছাতে কিছুদিন পার করেছেন। আবার কেউ কেউ এই সময়ে ট্রলার মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ দুই মাসের এই কর্মহীন সময়ে আড়তদার এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছেন।

তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের চাল সহায়তা দেওয়া হলেও এই চাল বরাদ্দে অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন। তাদের দাবি, চালের পরিবর্তে যদি সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, তবে ভোগান্তি ও অনিয়ম কম হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে ৩ হাজার ৬০০ জনকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে আগে দুই ধাপে দেওয়া হলেও এবার এক ধাপে মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রশিদুল হক জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এই সময়ে সমুদ্রে মাছ ডিম দেয়। এতে করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সাময়িক ত্যাগের ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রে মাছের প্রাপ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে জেলেরাই ভোগ করবেন। এ জন্য জেলেদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনোয়ারা উপজেলায় ৩ হাজার ৬০০ জেলেকে এক ধাপে ৭৭ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন