কক্সবাজারের রামুর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সার পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ এবং দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১০টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি), রামু ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এসব সার জব্দ করা হয়। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৩০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।
আটকরা হলেন উখিয়ার পালংখালীর পশ্চিম পালংখালীর বাসিন্দা মো. জাহেদ হোসেন (২৫) এবং পিকআপচালক বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ির বাসিন্দা সৈয়দ করিম (২৭)। বর্তমানে তিনি রামুর ফতেখাঁরকুল এলাকায় বসবাস করেন।
বিজিবি জানায়, রামুর চৌমুহনী এলাকার একটি গুদাম থেকে উখিয়ার পালংখালী বাজারের দিকে একটি পিকআপে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার পাচার করা হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মরিচ্যা চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভোলা-ন-১১-০৩৭৩ নম্বরের পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি করে ৫০ কেজি ওজনের ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি পিকআপটি জব্দ এবং দুইজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন স্থান থেকে ইউরিয়া সার সংগ্রহ করে উখিয়ার কুতুপালং বাজারে মজুদ রাখতেন। পরে পর্যায়ক্রমে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব সার পাচার করা হতো।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ করা সার যাচাই করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সার ও পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকার বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি উপকরণ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে পাচার বা অবৈধভাবে পরিবহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জব্দ করা ইউরিয়া সার, পিকআপ ভ্যান এবং আটক দুইজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।














