চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার সৈন্যেরটেক-চরলক্ষ্যা-বোর্ড বাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের দুই বছর পার হলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের অন্তত দেড় কিলোমিটার অংশে এখনো কার্পেটিং ও আরসিসি ঢালাই অসম্পূর্ণ থাকায় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, যানবাহনের চালক ও বিভিন্ন সরকারি সেবাগ্রহীতা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সৈন্যেরটেক থেকে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদ, সেখান থেকে মেরিন একাডেমি হয়ে বোর্ড বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পর কাজের দায়িত্ব পায় তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশে উন্নয়নকাজ শেষ হলেও অন্তত দেড় কিলোমিটার অংশে এখনো কার্পেটিং হয়নি। ফলে ইটের খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কর্ণফুলী থানা থেকে চরলক্ষ্যা ভূমি অফিস পর্যন্ত অংশে দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, চরলক্ষ্যা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘থানা এলাকা পার হওয়ার পরই সড়কের বেহাল অবস্থা শুরু হয়। কয়েকটি স্থানে এখনো আরসিসি ঢালাই হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করেছে। তবে অবশিষ্ট কার্পেটিংয়ের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমদ কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিটুমিন ও পাথরের মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্ষাকালের কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পাথরের দাম কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে গর্ত ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে। এরপর এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অবশিষ্ট কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
তবে সংশ্লিষ্ট বাজার তথ্য ও সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিটুমিনের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি মূল্যবৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায়নি। এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এখনো মূলত শিডিউল অব রেটস-২০২২ অনুসরণ করছে।
কর্ণফুলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, ‘ঠিকাদার নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিটুমিনের উচ্চমূল্যের কারণে কার্পেটিংয়ে বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’
চট্টগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হবে। জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’














